সম্প্রচার নীতিমালা চলতি সংসদ অধিবেশনেই উত্থাপন

85

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশে প্রায় বছর দেড়েক আগে অনুমোদন হওয়া সম্প্রচার নীতিমালার আলোকে একটি সম্প্রচার কমিশন গঠন ও আইন প্রণয়নের কাজ প্রায় গুছিয়ে এনেছে একটি কমিটি। এরই মধ্যে সম্প্রচার আইনের একটি প্রাথমিক খসড়াও তৈরি হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার একটি বৈঠকে কমিটির সদস্যরা এই খসড়ার উপর আলোচনা করবেন বলে কথা রয়েছে। কিš‘ বছর দেড়েক আগে যে সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে বাংলাদেশে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল সেটিরই আলোকে এখন যে সম্প্রচার কমিশন গঠন ও আইন প্রণয়নের কাজ চলছে তাকে সম্প্রচার মাধ্যম, সংশ্লিষ্ট মানুষ এবং সাধারণ দর্শকরা কী চোখে দেখছেন?
বাংলাদেশের মানুষকে একসময় বিনোদন ও তাৎক্ষণিক তথ্যের জন্য নির্ভর করতে হতো রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের উপর। বিনোদন নিয়ে তেমন কথাবার্তা না হলেও তথ্য ও সংবাদ প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের নিরপেক্ষতা বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ।
কিন্তু ১৯৯৮ সালে প্রথম বেসরকারি গণমাধ্যম হিসাবে একুশে টেলিভিশনের জন্মের পর গণমাধ্যম সম্পর্কে মানুষের ধারণা বদলে যেতে শুরু করে। দেড় যুগের পথ পরিক্রমায় বর্তমানে বাংলাদেশে দুই ডজনের বেশি বেসরকারি টেলিভিশন এবং বেশ কিছু সংখ্যক এফএম রেডিও রয়েছে। এতদিন এগুলোর সুনির্দিষ্ট কোন নিয়মের আওতায় ছিল না। কিন্তু মন্ত্রিসভায় ইতিমধ্যে সম্প্রচার নীতিমালা অনুমোদন করছে। এখন এই নীতিমালার আলোকে চলছে একটি সম্প্রচার কমিশন গঠন ও আইন প্রণয়নের কাজ। এজন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড.গোলাম রহমানের নেতৃত্বে একটি কমিটি ৬ মাস ধরে কাজ করছে। ড. রহমান জানান এরই মধ্যে আইনটির একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছেন। আশা করছি এই আইনটি পাসের জন্য চলমান শীতকালিন অধিবেশনেই উত্থাপন করা হতে পারে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এতদিন পর এসে গণমাধ্যমের জন্য একটি আইন বা কমিশন গঠনের প্রয়োজন কেন দেখা দিল?
গণমাধ্যমের জন্য আইন বা কমিশন গঠনের প্রয়োজন সম্পর্কে বিবিসি বাংলার সাথে কথা বলেন বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল আই’র একজন উদ্যোক্তা এবং টিভি চ্যানেল মালিকদের সংগঠন অ্যাডকোর সাধারণ সম্পাদক শাইখ সিরাজ। শাইখ সিরাজ বলেন, এর জন্য ভাবনাটা দুই রকম। কেউ কেউ ভাবছেন আইনের দরকার আবার অনেকে বলছেন এতদিন ধরে চলছে এখন আইনের কি দরকার। কিন্তু আমাদের একটা গাইড লাইনের দরকার আছে। এখন সব টেলিভিশন তাদের নিজস্ব সেন্সরশিপে চালাচ্ছে। সবকিছু নিয়ে বিচার বিশ্লেষণ যদি করা হয় তাহলে একটা গাইডলাইনের প্রয়োজন আছে। কিন্তু সেই গাইডলাইনটা কিভাবে হবে সেটা আমি জানি না। তবে এটুকু বুঝি গণমাধ্যম যতটুকু স্বাধীনতা ভোগ করছে এটা দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় যুদ্ধ করতে করতে এখানে এসে দাঁড়িয়েছে। অতএব, সেটাকে বর্তমান সময়ে এসে ব্যহত করা ঠিক না।
সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে সাধারণ মানুষ মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। একজন বলেন, যদি স্বাধীনভাবে সবাই মতামত প্রকাশ করতে পারে বা স্বাধীনভাবে টিভি চ্যানেলগুলো সব সংবাদ প্রকাশ করতে পারে এটাই ভাল। অপর একজন বলেন, সব কাজে একটা নিয়ম থাকা উচিত। নিয়ম না থাকলে সেখানে কোন শৃঙ্খলা থাকে না। নীতিমালা এমনভাবে করা উচিত যেন সবকিছু পাওয়া যায়।
উল্লেখ করা যেতে পারে ২০১৪ সালের আগষ্ট মাসে বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা অনুমোদিত হবার পর অনেকেই বলেছিলেন যে এই নীতিমালা সম্প্রচার মাধ্যমের কণ্ঠ চেপে ধরবার সুযোগ করে দেবে। ঐ নীতিমালাতে একটি স্বাধীন সম্প্রচার কমিশন গঠন ও সম্প্রচার আইন প্রণয়নের দিক নির্দেশনা দেয়া ছিল।আরিফুর রহমান , আমাদের সময়.কম