সম্প্রচার আইন ‘গোদের ওপর বিষফোড়া’র সমতুল্য–বাম জোট

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাম গণতান্ত্রিক জোটের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের জরুরি এক সভায় গৃহীত প্রস্তাবে গতকাল মন্ত্রিপরিষদে গৃহীত সম্প্রচার আইন সম্পর্কে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়েছে, এই আইনের মধ্য দিয়ে সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর যেটুকু স্বাধীনতা ছিল তাকেও কেড়ে নেওয়া হলো। সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর ওপর সরকারের অনাকাংক্ষিত, অগণতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ আরও পাকাপোক্ত হলো। সম্প্রচার মাধ্যমসমূহকে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যই সম্প্রচার আইন করা হচ্ছে। বাক্ স্বাধীনতা ও মুক্ত সাংবাদিকতার পরিপন্থী ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের’ চরম অগণতান্ত্রিক ও নিবর্তনমূলক ধারা বাতিলে সম্পাদক পরিষদসহ দেশের সচেতন মানুষ যখন সোচ্চার, তখন নিয়ন্ত্রণমূলক সম্প্রচার নীতিমালা ‘গোদের উপর বিষফোঁড়ার’ সমতুল্য।
প্রস্তাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সম্প্রচার নীতিমালা আইনের যাবতীয় নিবর্তনমূলক ধারা বাতিল করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়।
আজ সকালে মুক্তি ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় এই প্রস্তাব গৃহীত হয়। জোটের সমন্বয়ক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন জোটের কেন্দ্রীয় নেতা সিপিবি’র সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, বাসদের কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক ফিরোজ আহমেদ, বাসদ (মার্কসবাদী)’র কেন্দ্রীয় নেতা ফখরুদ্দিন কবির আতিক, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহবায়ক হামিদুল হক এবং বহ্নিশিখা জামালী, রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রমুখ।

সভায় গৃহীত প্রস্তাবে আরও বলা হয়, সম্প্রচার আইন কার্যকর হলে সম্প্রচার মাধ্যমগুলো জনগণের কোনো ন্যায্য আন্দোলন, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ বা দ্রোহের খবর প্রচার করতে পারবে না। বস্তুত সরকারের পছন্দের বাইরে নাগরিক সমাজের কোনো সমালোচনা বা বিরুদ্ধ মতও প্রকাশ করা যাবে না। তাছাড়া আইনের ধারাগুলো এত বিস্তৃত ও অনির্দিষ্ট যে নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধারায় সম্প্রচার বন্ধ করে দিতে পারবে। একবিংশ শতাব্দীতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধসম্পন্ন কোনো দেশ বা সমাজ এই ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক বিধি-বিধান মেনে নিতে পারে না।