সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ, ডাকসুসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন, পিইসি পরীক্ষা বাতিল ও নিরাপদ ক্যাম্পাসসহ সাত দফা দাবিতে বুধবার সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৫ম কেন্দ্রীয় সম্মেলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সকাল ১১ টায় অপরাজেয় বাংলায় সম্মেলন উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিনা লুৎফা নিত্রা।
উদ্বোধনী বক্তব্যের পর সারাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি সুদৃশ্য র‌্যালী বিশ্ববিদ্যালয় ও নগরীর রাজপথ প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালীটি কলাভবন, টিএসসি, দোয়েল চল্টর. প্রেসক্লাব, পল্টন হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামে গিয়ে শেষ হয়।

বিকাল ৪ টায় রাজু ভাস্কর্যে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাসদ(মার্কসবাদী)-র সাধারণ সম্পাদক কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিমউদ্দিন খান, অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের সভাপতি কমল সাঁই।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “শাসকশ্রেণী শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণের মধ্য দিয়ে শিক্ষার অধিকার হরণ করছে। অন্যদিকে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোথাও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নেই। নিজেদের লুন্ঠন অব্যাহত রাখতে নির্বাচনের আয়োজন করে কিন্তু ছাত্রদের গণতন্ত্র চর্চার পীঠস্থান ডাকসু নির্বাচন দেয় না। নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি থাকলে ছাত্র স্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ নিতে পারবে না তাই ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে রেখেছে।”
তিনি আরো বলেন, “ গণতন্ত্রের বুলি আউরে মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে টুটি চেপে ধরেছে। তাই শহীদুল আলমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাইদুল ইসলামকে ৫৭ ধারায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই যে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষন্ন করা ও শিক্ষার অধিকার হরণ এগুলো কোনোটাই রোগ নয়, রোগের উপসর্গ। আসল রোগ হলো পুজিঁবাদ। পুঁজিবাদই শিক্ষাকে মুনাফার পণ্যে পরিণত করেছে।”

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নাঈমা খালেদ মনিকা। তিনি আলোচনা সভা শেষে মাসুদ রানাকে সভাপতি, জয়দীপ ভট্টাচার্যকে সহ-সভাপতি, রাশেদ শাহরিয়ারকে সাধারণ সম্পাদক, তাজনাহার রিপনকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে গঠিত ১৯ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটিকে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ও চারণ সাংস্কৃতিক কের্ন্দের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সম্মেলন সমাপ্ত হয়।