সমঝোতায় সিপিএম-কংগ্রেস

73

যুগবার্তা ডেস্কঃ বহু আলোচনার পথ পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সমঝোতার সূত্র মোটামুটি ঠিক করে ফেলল সিপিএম ও কংগ্রেস। এত দিন পর্যন্ত বামফ্রন্টের মধ্যে সিপিএম একাই লড়ত ২১৪টি আসনে। কংগ্রেস সূত্রের দাবি, এ বার বৃহত্তর ঐক্য গড়ার স্বার্থে বামফ্রন্ট মিলিত ভাবে লড়তে চলেছে প্রায় ১৯০টি আসনে। রবিবার রাত পর্যন্ত দু’পক্ষের আলোচনার যা গতিপ্রকৃতি, তাতে কংগ্রেস লড়তে পারে প্রায় ৯০টি আসনে। এর পরেও আসন অদল-বদল হতেই পারে। কিন্তু কম-বেশি ৯০ আসনের রফায় তারা যে সন্তুষ্ট, তার ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে কংগ্রেস।
তবে কংগ্রেসের ৯০-এর বাইরেও অন্তত ৭টি আসন নিয়ে গেরো থেকেই যাচ্ছে! তার মধ্যে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর জেলায় রয়েছে তিনটি আসন। সেই তিনটি আসনই বামেদের জেতা। কিন্তু এ বার সেখানে লড়তে চাইছে কংগ্রেস। দু’পক্ষের নেতারাই অবশ্য বলছেন, আরও আলোচনা চালিয়ে তাঁরা সাতের গেরোও কমিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। আর অধীর বলে রেখেছেন, একান্তই সমাধান না বেরোলে ওই কয়েকটি আসনে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই’ হলে হবে।
প্রথম পর্যায়ে কংগ্রেস ৭৫টি আসনে লড়ার কথা ঘোষণা করেছিল। তার মধ্যে জয়পুর আসনটি পরে ফরওয়ার্ড ব্লককে (তাদেরই জেতা) ছেড়ে দিতে তারা রাজি হয়েছে। জয়পুর বাদে আগের দফার ৭৪টির সঙ্গে এ দিন সন্ধ্যায় বহরমপুর থেকে আরও ১৬ আসনের তালিকা ঘোষণা করেছেন অধীর। তার পরে রাতে ফের আলোচনায় বসেন প্রদেশ কংগ্রেসের তিন নেতা সোমেন মিত্র, প্রদীপ ভট্টাচার্য ও আব্দুল মান্নান এবং সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রবীন দেব। আলোচনার শেষে প্রদীপবাবুর বক্তব্য, ‘‘জট অনেকটাই ছাড়ানো গিয়েছে। রফা-সূত্র তৈরি হচ্ছে। চ়ূ়ড়ান্ত তালিকা এ বার তৈরি করা যেতে পারে।’’ আর রবীনবাবুর সতর্ক প্রতিক্রিয়া, ‘‘আসন সমঝোতার প্রথম পর্ব চূড়ান্ত।’’
প্রদেশ কংগ্রেসের একাংশের বক্তব্য, ২০০১ সাল থেকে বারবারই জোটে গিয়েছে কংগ্রেস। কিন্তু প্রায় ৯০ আসনে লড়ার সুযোগ তারা পায়নি। অতীতে তৃণমূলের সঙ্গে জোটের চেয়ে এ বার বামেদের সঙ্গে সমঝোতার সব চেয়ে বড় তফাত এখানেই। এবং এই ক্ষেত্রে কৃতিত্ব প্রাপ্য প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীরের। সোমেনবাবুদের সামনে রেখে দফায় দফায় আলোচনা চালিয়ে এবং অন্তরালে নিজে সক্রিয় থেকে তিনি এই বোঝাপড়াকে প্রায় চূড়ান্ত চেহারা দিতে পেরেছেন বলে দলের ওই অংশের বক্তব্য।
প্রাথমিক ভাবে রফা-সূত্রে পৌঁছনো গেলেও কিছু উদ্বেগ অবশ্য থেকেই যাচ্ছে দু’পক্ষের জন্য। মুর্শিদাবাদের ভরতপুর, ডোমকল ও হরিহরপাড়ার পাশাপাশি মালদহে দুই বাম শরিক ফরওয়ার্ড ব্লক এবং আরএসপি-র জেতা দু’টি আসন হরিশ্চন্দ্রপুর ও মালতীপুরেও ‘বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই’ চাইছে কংগ্রেস। তারা এ দিন দাবি করেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের তপন ও কলকাতার বেলেঘাটা আসন দু’টিও। যেখানে বামেরা ইতিমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। প্রথম পর্বের ঘোষিত কিছু আসন থেকে সিপিএম প্রার্থী সরিয়ে নিতে রাজি বলে কংগ্রেসকে জানিয়েছে। কিন্তু সে সবের কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়ায় বিভ্রান্তির অবকাশ থাকছেই। প্রদেশ কংগ্রেসের এক নেতা অবশ্য রাতেও বলেছেন, ‘‘এই তালিকাও শেষ কথা নয়। আলোচনা করে ফয়সালা হতেই পারে।’’ তবে কংগ্রেসের তালিকা অনুযায়ী সব চেয়ে সঙ্কটে পড়েছে আরএসপি! তালিকায় তাদের সঙ্গেই কংগ্রেসের ‘সংঘাত’ দেখা যাচ্ছে বেশি।
রাতের বৈঠকের আগে এ দিন সন্ধ্যায় বহরমপুরে জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে নতুন ১৬ আসনের তালিকা দিয়ে অধীর বলেন, ‘‘এ ছাড়াও ৮টি আসনে এমন প্রার্থী থাকবেন, যাঁদের উভয় দল সমর্থন করবে। সেটা জেডিইউ-আরজেডি হতে পারে। ‘আক্রান্ত আমরা’ বা ‘সেভ ডেমোক্র্যাসি’ও হতে পারে।’’ বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এ দিনই ‘আক্রান্ত আমরা’-র দুই প্রার্থী অম্বিকেশ মহাপাত্র ও প্রতিমা দত্তকে সমর্থনের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। পিডিএসের জন্য ছে়ড়ে-রাখা কাকদ্বীপ অবশ্য কংগ্রেসের নতুন ১৬-র তালিকায় রয়েছে। আবার অর্থলগ্নি সংস্থার প্রতারিতদের জন্য লড়াই করা প্রতীম সিংহ রায়ের জন্য কংগ্রেস সিপিএমের কাছ থেকে পুরশুড়া আসনটি নিচ্ছে।