সব পুরস্কার বাংলার মানুষকে উৎসর্গ করে দেন প্রধানমন্ত্রী

86

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নসাধ ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়তে কাজ করে যাবো। এজন্য যেকোনো ত্যাগ করতে প্রস্তুত আছেন বলেও জানান তিনি।

বাবা-মা, ভাইদের হারিয়ে বাংলার মানুষের মাঝে বাবা-মায়ের স্নেহ, ভাইয়ের ভালোবাসা পেয়েছেন বলে উল্লেখ করে তার সব অর্জন, সব পুরস্কার বাংলার মানুষকে উৎসর্গ করে দেন প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নাগরিক সংবর্ধনার জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন অব দি আর্থ’ পদক এবং তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক ‘আইসিটি সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ নাগরিক সংবর্ধনা দেয় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন।

বিকেল সাড়ে চারটায় শুরু হওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আনিসুল হক।

এদেশের মানুষের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বসভায় বাংলাদেশের মানুষ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

লাখো শহীদের রক্তে পাওয়া দেশ আর বিজয়ী জাতি মাথা নিচু করে চলবে, তা হতে পারে না। তারা বিশ্বসভায় মর্যাদার আসন পাক সেটাই চাই। তারা মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে না, অন্ন পাবে না, তা হতে পারে না। তাই যে চেতনা নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে, সেই গরিব কৃষক মেহনতি মানুষ উন্নত জীবন পাবেন, সেটাই আমার লক্ষ্য।

কারও কাছে হাত পেতে নয়, কারো মুখাপেক্ষী হয়ে নয়, এদেশের মানুষ হবে সব দিক দিয়ে স্বাবলম্বী বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, শুধু পুরস্কারের জন্য বা পুরস্কার অর্জন করেই আমরা বসে থাকিনি। সীমিত সম্পদ দিয়েই আমরা সবুজ সোনার বাংলাদেশকে সবুজ রাখতে নিজেরাই কার্যক্রম শুরু করেছি। একদিকে পরিবেশ রক্ষা, অন্যদিকে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছি আমরা। ‍কারণ, আমার দেশের পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি দেশকে উন্নত করতে হবে।

তিনি জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবেলায় খরাসহিষ্ণু ধানসহ বিভিন্ন গবেষণার ওপর জোর দিয়েছি। নদী-নালা রক্ষায় কাজ চলছে। সেই সঙ্গে নদীর নাব্যতা রক্ষা করে আমিষ উৎপাদন অর্থাৎ মাছের উপাদন বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে কাজ করছি।

ডিজিটাল বাংলাদেশ করার ঘোষণা দিয়েছি। প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। উন্নয়ন করতে গেলে পরিবেশের ক্ষতি হয়। কিন্তু পরিবেশকে রক্ষা করে ভারসাম্য রক্ষা করে এবং মানুষ যাতে সুন্দরভাবে বাঁচতে পারেন- সে লক্ষ্য নিয়েই আমরা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকের দিনে প্রতিজ্ঞা করছি, ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত এবং আজকের শিশুদের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে যাবো। এটাই আমার প্রতিজ্ঞা। আমার বাবা এদেশের মানুষকে গভীরভাবে ভালোবেসেছিলেন। তাকেও ভালোবেসেছে এদেশের মানুষ। আর স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে যখন দেশে ফিরলাম, তখন দেশের মানুষ আমাকেও ভালাবেসেছে। তাদের জন্য সোনার বাংলা আমরা গড়ে তুলবো।

২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আবারও দৃঢ় প্রতিজ্ঞা উচ্চারণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

‘চ্যাম্পিয়ন অব দি আর্থ’ ও ‘আইসিটি সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ পুরস্কার পাওয়ায় বাংলার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তিনি তার বক্তব্যে এই দুই পুরস্কার দেশের জনগণকে উৎসর্গ করেন। একই সঙ্গে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে ধন্যবাদ জানান।

পাশাপাশি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য অংশগ্রহণকারী শিশুসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এবং অতিথিদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের বক্তৃতার পাশাপাশি ছিলো মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। এ অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন পরিবেশনার পাশাপাশি সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন শিল্পীরা।

অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা ছাড়াও সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে যোগ দিয়ে শনিবার (৩ অক্টোবর) দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে পরিবেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় তাকে ‘চ্যাম্পিয়ন অব দি আর্থ’ পদকে ভূষিত করা হয়। এছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় তিনি পান ‘আইসিটি সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’। বাংলাদেশ সময়