সন্ধ্যা নদীর ভাঙ্গনে হুমকির মুখে সাইক্লোন সেন্টার, বিলীন হয়ে গেছে ভেড়িবাধ সহ কয়েকটি গ্রাম

77

মহসিন মিঞা লিটন, উজিরপুর থেকেঃ বরিশালের উজিরপুরে সন্ধ্যা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলীন হতে চলেছে এলজিইডির কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্কুল কাম সাইক্লোন সেল্টার। উজিরপুর দিয়ে বয়ে যাওয়া সন্ধ্যা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে গত কয়েক বছরে গুঠিয়া ইউনিয়নের হানুয়া, কমলাপুর, দাসেরহাট, বান্না, আশোয়ার গ্রামের প্রায় ৪ কিলোমিটার অংশে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দেয়। ইতিমধ্যে উজিরপুর সাতলা সড়কের ৩ কিমি, গুঠিয়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে গেছে।গ্রাস করেছে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপে¬ক্স, স্কুল, মসজিদ মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে দক্ষিন সাকরাল গ্রাম। সরেজমিনে ঘুরে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, চলতি বছর এই ভাঙ্গন আরো ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। গত এক সপ্তাহের ভাঙ্গনে বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৫০টি পরিবার ভাঙ্গনের মুখে পড়ে হারিয়েছে সর্বস্ব। স্রোতস্বিনী সন্ধ্যা নদী গ্রাস করেছে ফসলী জমি, পান বরজ, মাছের ঘের, বাগান, বিলীন হয়েছে ২ শত বছরের ঐতিহ্যবাহী নলিনী সেনের বাড়ি ঘর। ভাঙ্গন কবলিত স্বামী হারা ছালেহা বেগম কান্না জরিত কন্ঠে বলেন গত কয়েক বছরে প্রায় ৪/৫ বার বাড়ি ঘর সরিয়ে নিতে আমরা নিস্ব। ফসলি জমি টুকুও গ্রাস করে নিয়েছে সন্ধ্যা নদী । ইউনুস ফকির জানান গ্রাম্য প্রবাদে আছে ঘর পুড়লে আবশিষ্ট ছাই টুকু পাওয়া যায়, কিন্তু নদী ভাঙ্গনে কিছুই থাকে না। এ ভাবেই এলাকাবাসী তাদের অসহায়ত্বের চিত্র তুলে ধরেন সংবাদ কর্মীদের কাছে। সন্ধ্যা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে শিকারপুর বাজার, কালী বাড়ি বাজার, নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী চতল বাড়ি বাজার, স্কুল, বড়াকোঠা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপে¬ক্স, উজিরপুর সাকরাল সড়কসহ শতাধিক ঘরবাড়ি। যার ফলে নিস্ব হয়ে গেছে কয়েক শত পরিবার। ফসলী জমি ও বাড়ি হারিয়ে অনেক লোক ইতিমধ্যে অনত্র বসতি স্থাপন করে ও মানবেতর জীবন-যাপন করছে। হাসপাতাল, স্কুল, রাস্তাঘাট বিলীন হওয়ার ফলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ, এলাকাবসী ক্ষোভের সাথে বলেন প্রসাশন যদি কার্যকরী ব্যবস্থা না নেয় তবে আমাদের দূর-দশা আরো বাড়বে। এ ভাঙ্গন কবলিত এলাকার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝুমুর বালা বলেন সদ্য যোগদান করেছি। খোজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান ইকবাল বলেন আমার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গনের বিষয়টি আমি জেনেছি। এ বিষয়ে মাননীয় সংসদ সদস্যের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য তালুকদার মোঃ ইউনুস জানান এ বিষয়ে মহান সংসদে বিষয়টি উপস্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।