সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পর্যটন হবে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের হাতিয়ার : পর্যটন মন্ত্রী

যুগবার্তা ডেস্কঃ পর্যটন বর্ষ ২০১৬ উপলক্ষে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের টিএসসি সড়কদ্বীপে (স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বর) দুই দিনব্যাপী ‘নবান্ন ও লোকজ মেলা’ শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে বেলুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বাংলাদেশ ইয়ুথ এন্ড স্টুডেন্টস ফোরাম ফর ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট এ উৎসবের আয়োজন করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ড. অপরূপ চৌধুরী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস এবং মিডিয়া কাউন্সিল ফর ট্যুরিজম বাংলাদেশ এর সভাপতি ও ৭১ টিভির পরিচালক (বার্তা) সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ইয়ুথ এন্ড স্টুডেন্টস ফোরাম ফর ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট এর চেয়ারম্যান মোস্তফা আলমগীর রতন। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল বাপ্পাদিত্য বসু।
উৎসবের উদ্বোধন করে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বাংলাদেশ অতিথিপরায়ণ জাতি। আমাদের আতিথ্য আর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য দিয়ে বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে হবে। আমাদের সংস্কৃতির শক্তি অসীম। এই দেশজ লোকজ সংস্কৃতিকে পর্যটন শিল্পের সাথে মেলাতে হবে। সংস্কৃতিই এদেশের পর্যটন শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে।
তিনি বলেন, পর্যটন একটি শ্রমঘন শিল্প। এ শিল্পের প্রতি সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যথাযথ গুরুত্ব আরোপ করলে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানও হতে পারে। এক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ পর্যটনের উপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। উপাচার্য জানান, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও এর বিভিন্ন দিক নিয়ে শিক্ষাদান ও গবেষণার কাজ করছে। এটি নিঃসন্দেহে পর্যটন শিল্প বিকাশে সহায়ক হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এ ধরনের আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ ইয়ুথ এন্ড স্টুডেন্টস ফোরাম ফর ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্টকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, নবান্ন, পৌাষ পার্বন, বর্ষবরণ ইত্যাদি লোকজ সংস্কৃতি আমাদের আত্মপরিচয়। পাকিাান আমলে সামরিক শাসন আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আমরা রবীন্দ্রনাথকে হাতিয়ার করেছিলাম। আজ যখন দেশ ও জাতি জঙ্গিবাদের বিষাক্ত নিঃশ্বাসে আক্রান্ত, তখনও এ জাতীয় লোকজ অনুষ্ঠান ও পর্যটনকেই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াইয়ের হাতিয়ার করতে হবে। নবান্ন ও লোকজ মেলার এই আয়োজনকে আমি নিছক একটি অনুষ্ঠান হিসেবে দেখছি না, আমি মনে করি জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এটি ছাত্র-যুবদের প্রতিবাদ। বাংলাদেশে আজ হঠাৎ করেই সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস, নারী ও শিশুর প্রতি সন্ত্রাস বেড়ে গেছে। এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে ছাত্র-যুবদের সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজন।
মন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আমরা ২০১৮ সাল পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলমান রাখবো। কিন্তু পর্যটন বর্ষের শুরুতেই আমরা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছি। কঠিন বাস্তবতার মধ্যদিয়ে আমরা পর্যটন বর্ষের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। তাবেলা সিজার ও হোশিও কুনি হত্যা এবং পরবর্তীতে গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় বিদেশি নাগরিকদের হত্যাকান্ডের ফলে আমাদের পর্যটন শিল্প ও ব্যবসা বাণিজ্য খানিকটা ধাক্কা খায়। বিপুল সংখ্যক বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশে আসার বুকিং বাতিল করেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক-সামাজিক ও সরকারি পর্যায়ে লড়াই করে আমরা সেই কঠিন বাস্তবতা অতিক্রম করেছি। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে ওঠায় মেঘ কেটে গেছে। জঙ্গি হামলাগুলোর এক মাসের ভিতর আমরা অভ্যন্তরীণ পর্যটনে বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছি। এর সাথে বিদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এখন সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে বিশেষ তরুণদের উদ্যোগে আমাদের নিজস্ব আত্মপরিচয়ের সংস্কৃতিকে সামনে নিয়ে আসতে হবে। তবেই আমাদের পর্যটন বর্ষের লক্ষগুলো পূরণ হবে।
জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যদিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। অনুষ্ঠানে শিল্পীরা বর্ণাঢ্য লোকজ গান ও নবান্নের গান পরিবেশন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে পর্যটন মন্ত্রীসহ অতিথিবৃন্দ মেলার স্টলগুলো ঘুরে দেখেন। মেলায় দেশীয় পিঠা, পায়েসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার ও হস্তশিল্পের পসরা নিয়ে বসেছেন ঢাকা ও ঢাকার বাইরের উদ্যোক্তারা।
দুই দিনের এই অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতা করছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন এবং এক্সিম ব্যাংক। অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করছে ৭১ টিভি এবং দৈনিক কালের কণ্ঠ।