সংসদ সদস্যরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভাপতি থাকতে পারবেন না

34

যুগবার্তা ডেস্কঃ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালন এবং গভর্নিং বডির বিশেষ কমিটির বিধান অবৈধ বলে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
আজ রবিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। গত ১ জুন বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা ২০০৯ এর ৫ (২) এবং ৫০ ধারাকে বাতিল করে রায় দেন বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ। এর ফলে এ বিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা স্কুল-কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হতে পারবেন না বলে জানান রিট আবেদনকারী আইনজীবী ড. ইউনুচ আলী আকন্দ।
তবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইসরাত জাহান বলেন, আদালত ম্যানেজিং কমিটিতে ইচ্ছা পোষণ করে সংসদ সদস্যদের সভাপতি হওয়ার বিধান এবং বিশেষ কমিটির বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করেছেন। এর ফলে এখন সংসদ সদস্যরা ইচ্ছে করলেই কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে পারবেন না। সভাপতি হতে হলে তাদের নির্বাচনের মাধ্যমে আসতে হবে। এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষ কমিটি করা যাবে না। পরে ৮ জুন হাইকোর্টের ওই রায়ের স্থগিতাদেশ চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদন জানায় রাষ্ট্রপক্ষ। ওই দিন স্থগিতাদেশ না দিয়ে আবেদনটি ১২ জুন শুনানির জন্য আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন চেম্বার বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।
গত ১৩ এপ্রিল ওই রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব পালন এবং নির্বাচন ছাড়া কমিটি গঠন কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রিট আবেদনকারী আইনজীবী ইউনুচ আলী বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধানমালা ২০০৯-এর ৫ ও ৫০ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৫ ধারা হচ্ছে এমপিদের সভাপতি পদ ও ৫০ ধারা হচ্ছে বিশেষ কমিটি গঠন নিয়ে। আদালত দুটি ধারাই বাতিল ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করেছেন।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক অধ্যাদেশের (১৯৬১) আওতায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০০৯ এর ৫ ধারা (গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়ন) এর (১) উপবিধিতে বলা হয়েছে, কোনো স্থানীয় নির্বাচিত সংসদ সদস্য তার নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত বোর্ড কর্তৃক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এমন সংখ্যক উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতির দ্বায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবেন।
(২) উপবিধান ১ এর অধীন সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্থানীয় নির্বাচিত সংসদ সদস্য, তার নির্বাচনী এলাকায় অবস্থিত যেসব উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব গ্রহণ করতে ইচ্ছুক তার উল্লেখসহ লিখিতভাবে এ প্রবিধানমালার অধীন বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে তার অভিপ্রায় ব্যক্ত করবেন এবং এ অভিপ্রায়পত্র সংশ্লিষ্ট বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা প্রতিষ্ঠানগুলোর সভাপতি হিসেবে তার মনোনয়ন হিসেবে গণ্য হবে। ৫০ ধারায় বলা হয়েছে, বিশেষ ধরনের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি- বিশেষ পরিস্থিতিতে বোর্ড এবং সরকারের পূর্বানুমোদক্রমে, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের কোনো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ ধরনের গভর্নিং বডি বা ক্ষেত্রমতে ম্যানেজিং কমিটি করা যাবে।
ভিকারুননিসার বিশেষ কমিটি বাতিলের রায় বহাল
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনার জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। আজ রবিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এক রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ১ জুন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপির নেতৃত্বে ভিকারুননিসার বিশেষ কমিটি বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। এর স্থগিতাদেশ চেয়ে ৮ জুন স্কুল কর্তৃপক্ষ ও বিশেষ কমিটি আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালতে আবেদনের পর চেম্বার বিচারপতি আবেদনটি ১২ জুন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন।
রিটটির শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ১৯ জানুয়ারি ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনার জন্য গঠিত বিশেষ কমিটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষাসচিব, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি, ঢাকা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
রিট আবেদনকারী আইনজীবী ইউনুচ আলী আকন্দ বলেন, প্রবিধানমালা ৩৯ মতে, অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ হবে ছয় মাসের জন্য। অথচ রাশেদ খান মেনন ২০০৯ সাল থেকে অ্যাডহক কমিটির চেয়ারম্যান। এটা সংবিধানের ৭, ২৬, ২৭, ২৮, ৩১, ৫৯, ৬০ ও ৬৫ এর লঙ্ঘন। পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইসরাত জাহান বলেন, ভিকারুননিসার বিশেষ কমিটি বাতিল করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে ছয় মাসের মাধ্যমে নির্বাচন করার নির্দেশ দিয়েছেন।