সংশোধনের চক্করে পৌর ভোটের তোড়জোড়ে ভাটা

42

যুগবার্তা ডেস্কঃ দলভিত্তিক পৌর নির্বাচন করার প্রস্তাবে ১২ অক্টোবর মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেওয়ার পর পেরিয়ে গেছে এক মাসের বেশি সময়। আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ আকারে তা জারি করা হলেও এরই মধ্যে নতুন সংশোধনীর বিল তোলা হয়েছে জাতীয় সংসদে।

এই পরিস্থিতিতে আটকে আছে নির্বাচন বিধিমালা ও আচরণবিধি চূড়ান্ত করার কাজ। অথচ ডিসেম্বরে ভোট করতে হাতে সময় আছে সর্বোচ্চ ৪৫ দিন।

গত বৃহস্পতিবারের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালার জারির পরিকল্পনা ছিল নির্বাচন কমিশনের। ডিসেম্বরে ভোট আয়োজনের লক্ষ্য সামনে রেখে এ মাসের মধ্যে ভোটার তালিকা ও সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত, ব্যালট পেপার ও আনুষাঙ্গিক সামগ্রী মুদ্রণসহ নানা প্রস্তুতির নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিধি সংশোধনে ধীরগতিতে কমিশনের কাজে ‘ভাটা’ পড়েছে বলে কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

খোদ প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দীন আহমদও শনিবার বলেছেন, বিধিমালা হাতে না পেলে পৌর ভোটের তফসিল ঘোষণা করা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না।

দলীয়ভাবে পৌর নির্বাচন করার সুযোগ রেখে আইন সংশোধনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়ার পর ৩ নভেম্বর তা অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হয়। অধ্যাদেশ হাতে পেয়ে নির্বাচন কমিশন বিধি সংশোধনের প্রস্তাব ভেটিংয়ের জন্য পাঠায় আইন মন্ত্রণালয়ে। অধ্যাদেশটি আইন আকারে পাস করার জন্য ৯ নভেম্বর মন্ত্রিসভায় তোলা হয়।

এরই মধ্যে রোববার জাতীয় সংসদে পৌরসভা আইনের নতুন সংশোধনী উত্থাপন করা হয়, যাতে শুধু মেয়র প্রার্থীদের দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে। বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বুধবারের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার জাবেদ আলী জানিয়েছেন, ডিসেম্বরে ভোট করতে হলে আগামী সপ্তাহের মধ্যে তফসিল করতেই হবে।

“বিধিমালা না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন বন্ধ থাকবে। নির্বাচন না করার বিষয়টি আইনি বিধান মেনেই হবে।”

ইসি কর্মকর্তারা জানান, দেশের ২৪০টিরও বেশি নির্বাচন উপযোগী পৌরসভার মেয়াদ পূর্ণ হবে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে।

হালনাগাদ খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে ২ জানুয়ারি, যা ৩১ জানুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত করতে চায় কমিশন। ফেব্রুয়ারিতে শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা, তখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না।

এসব কারণে বিদ্যমান ভোটার তালিকায় ডিসেম্বরকেই পৌর ভোটের উপযুক্ত সময় বলে মনে করছেন ইসি কর্মকর্তারা। তবে বৃহস্পতিবারের মধ্যে সব প্রক্রিয়া শেষ করতে পারলেই কেবল তা করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে ২২ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভোটের জন্য ৪০ দিন হাতে থাকবে।

জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার কমিশনার আবদুল মোবারক বলেন, “বিধিমালা হাতে না পেলে এ নিয়ে আগাম কিছু বলা যাবে না।”

তিনি জানান, জানুয়ারিতে ভোট করতে গেলে নতুন ভোটারদের নিয়ে তালিকা দিতে হবে। তা না হলে আইনি জটিলতাও দেখা দিতে পারে।

অন্যদিকে মার্চ থেকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় শুরু হবে। ডিসেম্বরে করতে না পারলে ‘তামাদি’ হয়ে যাবে পৌর ভোট। সেক্ষেত্রে সুবিধাজনক সময়ে ভোট করার আগ পর্যন্ত মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ নিতে হবে।বিডি নিউজ২৪.কম