সংলাপ, সমঝোতা ও আন্দোলন চালিয়ে যাবে বিএনপি

39

নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরীঃ বিএনপির সামনে এখন মূল লক্ষ্য সরকারের সঙ্গে নির্বাচনকালীন সরকারের ইস্যুুতে সংলাপ ও সমঝোতার। এই জন্য তারা সরকারের সঙ্গে বসতে চায়। আর সরকার তাতে বসতে রাজি না হলে বিএনপি আন্দোলনে যাবে। আন্দোলনে গেলে সেই আন্দোলন থেকে পেছন ফেরা যাবে না। ২০১৪ সালের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হবে। জনগণকে পাশে নিতে পারলে ও ভোটাররা নিজের ভোট নিজে দিতে পারলে সেই সঙ্গে বিদেশিরা সরকারের উপর চাপ তৈরি করতে পারলে বিএনপির দাবি আদায়ের পথ সুগম হবে। সেই জন্য ঢাকা মহানগর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে। এই সব চিন্তাভাবনা করেই বিএনপি নতুন করে পরিকল্পনা করছে। ও কাজ করছে।
বিএনপির সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর কমিটি নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের অনেক প্রত্যাশা। তারা মনে করছেন, নতুন যে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হয়েছে ও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা ঢাকা মহানগরের এর আগে দুটি আহ্বায়ক কমিটি কাঙ্খিত ও আশানুরুপ সাফল্য না দেখানোর ইতিহাস মুছে দিবে। এবং সাফল্য এনে দিবে। আর সেই সাফল্য আনার জন্য যা যা প্রয়োজন, সব রকমের সহায়তাও দেওয়া হবে। আগের কমিটির মতো যাতে করে মহানগরের কমিটির মধ্যে দ্বন্দ্ব ও কোন্দল প্রকাশ না পায় এবং নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব তাদেরকে পেছনে নিয়ে যেতে না পারে। ইতোমধ্যে চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের বার্তা ও নির্দেশনা মহানগরের নতুন কমিটির নেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, কোন ধরণের কোন্দল ও দ্বন্দ্বকে প্রাধান্য দেওয়া যাবে না। গ্রুপিং করা যাবে না। কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশনা আসবে সেটা সফল করার পাশাপাশি আগামী দিনে বিএনপির স্বপ্নকে পূরণ করার জন্য তাদেরকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
বিএনপির সূত্র জানায়, হাইকমান্ড ও দলের স্বপ্ন পূরণের জন্য তাদেরকে মনোযোগ দিতে হবে নেতা কর্মীদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার। কারণ ঐক্য গড়ে তুলতে পারলে সরকারের উপর চাপ তৈরি করা যাবে। দাবি মানানোও সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে সরকার এখন বিএনপিকে নিয়ে যেসব পরিকল্পনা করছে সেগুলোও করতে পারবে না। জনসমর্থনও আদায় করা সম্ভব হবে।
বিএনপির কাছে খবর রয়েছে, সরকার পরিকল্পনা অনুযায়ী একাদশ সংসদ নির্বাচন করতে না পারলে বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতেও পিছপা হবে না। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই বিএনপির হাইকমান্ড মনে করছে, সরকার বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চাইলে এবং নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার না করলে এই দাবি পূরণ করার জন্য পুরোদমে আন্দোলন করা হবে। সেই আন্দোলনে সাফল্য আনতে হবে। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার গঠন করাতে হবে। এই জন্য তৃণমূলের নেতাদের পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে, উপজেলা পর্যায়ে ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নেতাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা সকল বাঁধা অতিক্রম করেই আন্দোলন সফল করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন সেই হিসাবে কাজও করেছেন। কিন্তু ঢাকা মহানগরে তেমন প্রস্তুতি নেই। এই জন্য নতুন কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে বিএনপি যাতে আন্দোলনে সাফল্য আনতে পারে ও নির্বাচনে নিজেদের মতো করে ও পরিকল্পনা মতো যেতে পারে সেই জন্য ঢাকায় বিশেষ বিশেষ কর্মসূচি দেওয়া হবে। প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে ঢাকা মসগানগর কমিটি নাগরিক সমাজের মধ্যেও সরকার বিরোধি সচেতনতা তৈরি করতে পারে। এখন থেকে সেই হিসাবে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বিএনপির চেয়ারপারসন ও তারেক রহমান, ঢাকায় এর আগের আন্দোলনের ব্যর্থতার কারণ হিসাবে আগের দুই কমিটির ব্যর্থতাকেই দায়ী মনে করেন। এই কারণে আগের দুই কমিটির মতো নতুন কমিটি যাতে কোন কারণে ভয় না পায়, পিছু না হটে এবং সাহস নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে সেটাও বলা হচ্ছে। সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে দমন নিপীড়ন করে যে কোন উপায়ে বিএনপির আন্দোলন ঠেকানোর জন্য চেষ্টা করবে। এমনকি সভাসমাবেশও করতে দিবে না। আরও নানা প্রতিকুলতা তৈরি করবে। নেত কর্মীদের গ্রেফতারও করা হতে পারে। তাহলে ২০১৩ সালের মার্চ ফর ডেমোক্রেসীর মতো আন্দোলন ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। সেদিন ঢাকায় সব নেতারা ঘরে বসেছিলেন। মাঠে নামেননি খালেদা জিয়াকে যখন গুলশানের কবাসা থেকে বাইরে বের হতে দেওয়া হলো না তখন ওই এক ইনাম আহমেদ চৌধুরী ছাড়া অন্য কোন নেতারা সেখানে যাননি। আগামীতে এমন করা যাবে না।
বিএনপির সিনিয়র একজন নেতা বলেন, ঢাকার বাইরে দশম নির্বাচনের আগে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল ও সাফল্য এসেছিল। সেই সাফল্য ঢাকায় যদি অর্ধেকও আসতা তাহলে বিএনপিকে সমস্যায় পড়তে হতো না। দাবিও আদায় করা সম্ভব হতো। কিন্তু ওই সময়ে ঢাকায় তেমনভাবে আন্দোলন গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। এবার সেই ভুল করা যাবে না। হাইকমান্ডের নির্দেশ। সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে সংলাপে বসার জন্য চেষ্টা চলছে। নির্বাাচনকালীন সরকারের রূপরেখাও দেওয়া হবে। ওই সময়ে দাবি করা হবে সরকার যে তা করে। যদি না করে তাহলে বিএনপি বাধ্য হয়ে আন্দোলনে যাবে। সেই আন্দোলনে যত বাঁধাই আসুক পিছু হটা যাবে না। সেই জন্য আগামী দিনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। একদিকে সমঝোতার চেষ্টা অন্য দিকে আন্দোলনের প্রস্তুতি সব মিলিয়ে এগুতে হবে। এছাড়াও বিদেশীদের দিয়ে সরকারের উপর যে চাপ তৈরি করা তাও করতে হবে।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি আগামী নির্বাচনে যাবে। সেই জন্য পরিবেশ তৈরি হতে হবে। আর পরিবেশ তৈরি হলেই বিএনপি যাবে। সেটা যদি না করা হয় তাহলে নির্বাচন সম্ভব নয়। সরকার গতবার একতরফা নির্বাচন করতে পারলেও এবার বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করা সহজ হবে না। সরকারকে মনে রাখতে হবে, বিএনপি দেশের বড় রাজনৈতিক দল। বিএনপির নিবন্ধন নিয়ে শঙ্কিত নয়। সরকার বিনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করলে তা কারো কাছে দেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে কাজ করছি। নির্বাচনকালীন সরকার দল নিরপেক্ষ হতে হবে। আমরা সেইভাবে প্রস্তবনাও দিবো।
তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আংশিক কমিটি দিয়েছেন। এবারই ঢাকায় বিএনপিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সেখানে তরুণ ও প্রবীণদের সমন্বয় করা হয়েছে। তারা চেষ্টা করবে জনগণকে পাশে নিয়ে ও তাদেরকে নিয়ে আন্দোলন করার।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, সরকারের উপর তারা দায় চাপালে হবে না। কারণ দেশে সংবিধান আছে। সেই সংবিধান তাদেরকে মানতে হবে। সংবিধানের বিধান বলে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে বিএনপিকে নিজেদের প্রয়োজনে আসতে হবে। সরকার আনবে না। আর সরকারের তাদের সঙ্গে সংলাপে ও সমঝোতার কোন প্রয়োজন নেই। তারা সংলাপ চায় ও সমঝোতা চায়, নিদর্লীয় সরকার চায়। যেই সরকারের বিধান সংবিধানে নেই , সেই সরকার তারা কেমন করে চায়? কোন আন্দোলন করে বিএনপির লাভ হবে না। তারা না আসলেও দেশের সংবিধানের আলোকেই নির্বাচন হবে। তারা একবার আন্দোলনের নামে দেশের সম্পদের ক্ষতি করেছে। মানুষকে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে। সেই ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না।-আমাদের সময়.কম