শেষ দিনে গরুর সংকট, দামও চড়া

78

যুগবার্তা ডেস্কঃ কোরবানির ঈদের আগের দিন রাজধানীর হাটগুলোতে গরুর সরবরাহ গত কয়েক দিনের তুলনায় কম বলে শেষ বেলায় গরুর দাম বেশি বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। বৃষ্টির কারণে গত কয়েক দিন বাজারে ভাটা থাকলেও শেষ দিনে কোরবানির পশুর বিক্রি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাট ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ হাটেই পশুর সংখ্যা ছিল অনেক কম। অন্য হাটের তুলনায় গরুর সরবরাহ বেশি থাকার খবরে অনেক ক্রেতাকে গাবতলী হাটের দিকে ছুটতে দেখা যায়। ঈদের আগে শেষ দিন হওয়ায় বাধ্য হয়ে ‘বেশি দাম দিয়ে’ গরু কিনে বাড়ি ফিরছেন অনেক ক্রেতারা।
গাবতলী হাট থেকে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরুর কিনেছেন দনিয়ার মোহাম্মদ আলফা। এতে গত কয়েক দিনের তুলনায় দাম অন্তত ৪০ হাজার টাকা বেশি পড়েছে বলে তার ধারণা।
একজন ক্রেতা বলেন, গোলাপবাগ, পোস্তগোলা ও শ্মশানঘাট গরুর হাটে ঘুরে এসেছে এখানে পছন্দের গরু পেয়েছি। শেষ দিন তাই দাম বেশি হলেও কিছু করার নাই। বাজেট ছাড়িয়ে যাওয়ায় গরু কিনতে তাকে ঋণ করতে হয়েছে বলে জানান।
বারিধারা থেকে গাবতলী হাটে গরু কিনতে আসা আরেকজন ক্রেতা বলেন, নয়াবাজার, আফতাবনগরসহ চার-পাঁচটি বাজারে ঘুরেছি। গরু না পেয়ে এখানে এসেছি। এখানে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে একটি গরু কিনেছি। গতকালও গাবতলী হাটে আসছিলাম, বৃষ্টির কারণে কিনতে পারি নাই। আজতো বাজারের শেষ দিন, আবার বাজারে গরুও কম। তাই দাম বেশি হলেও না কিনে কোনো উপায় নাই।
এদিকে শেষ দিনে গরু বিক্রির দাম নিয়ে ‘সন্তোষ’ দেখা গেলেও সব গরু বিক্রি না হওয়ায় কেনো বিক্রেতা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা থেকে গাবতলী হাটে তিন দিন আগে ২১টি গরু এনেছেন আবদুল জলিল বেপারী।
বুধবার ছয়টি এবং বৃহস্পতিবার দুপুর পযর্ন্ত পাঁচটি বিক্রি করেছেন, যেগুলোর দাম ৫৫ হাজার থেকে ১ লাখ ৭ হাজার টাকার মধ্যে।
জলিল বেপারী বলেন, “গতবারের তুলনায় এবার দাম একটু বেশি পেয়েছি। আশা করছি, রাতের মধ্যে বাকি নয়টি গরুও বিক্রি হয়ে যাবে। কারণ অন্য হাটে গরুর পরিমাণ কম।
এই হাটে মঙ্গলবার মানিকগঞ্জের সিংগাইর থেকে ১৬টি গরু এনেছিলেন বেপারি ইদ্রিস মল্লিক, যার মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ১৫টিই বিক্রি হয়েছে। সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাম পাওয়ার বিষয় জানিয়ে ইদ্রিস বলেন, “সাইজ অনুযায়ী দাম পেয়েছি।” বুধবার রাত থেকে বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে বলে জানান তিনি।
শাহজাহানপুর পশুর হাটে কুষ্টিয়া থেকে আসা আবদুল জব্বার বলেন, ১৫টি গরু আনছিলাম। সবগুলো বিক্রি করে ফেলেছি। তার মধ্যে আজ বিক্রি করেছি ১১টা। কুষ্টিয়া থেকে আসা গরুর বেপারি নাসির উদ্দিন বলেন, “৩টি গরু আনছিলাম একটাও বিক্রি হয়নি। এক থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা পযর্ন্ত দাম ‘এস্টিমেট’ করছিলাম। মানুষ যে কম দাম বলতেছে, তাতে কসাইয়ের কাছে বিক্রি করাই ভাল।”
ছাগলের দামও চড়া: শেষ দিনে গরুর মতোই ছাগলের দাম আগের বছরের তুলনায় চড়া বলে জানিয়েছেন অনেক ক্রেতারা। ভাল দাম দামে বিক্রি করায় বিক্রেতারা বেজায় খুশি।
গাবতলী হাট থেকে ২১ হাজার ৫০০ টাকায় দুটি ছাগল কিনেছেন ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, আগের তুলনায় দাম অনেক বেশি নিচ্ছে। তবুও কিছু করার নাই, কিনতে তো হবেই। দাম বেশি হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কাঞ্চন বেপারি বলেন, অতো দাম বাড়ে নাই। ছাগলের দাম বাড়লে আর কতইবা বাড়ে, সর্বোচ্চ এক থেকে দুইশ’ টাকা।