শেখ হাসিনার সরে যেতে বাধা কাউন্সিলররা

????????????????????????????????????

যুগবার্তা ডেস্কঃ দল পরিচালনের জন্য নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ রোববার ২০তম জাতীয় কাউন্সিলে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের অধিবেশনে যোগ দিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
অধিবেশনে সূচনা বক্তব্য দেন প্রায় তিন যুগ ধরে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে থাকা শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি কাউন্সিলরদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি চাই, আমি বেঁচে থাকতে থাকতে নেতা নির্বাচন করে দলকে শক্তিশালী করে যাব।’তবে শেখ হাসিনার এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে উপস্থিত কাউন্সিলররা দাঁড়িয়ে সমস্বরে ‘না, না’ বলে ওঠেন।
কাউন্সিলররা সভাপতি পদে কোনো পরিবর্তন দেখতে চান না বলে তাদের মতামত দেন।
অধিবেশনে নিজ নিজ বক্তব্যে কাউন্সিলররা শেখ হাসিনাকে আজীবন মেয়াদে দলের দায়িত্বে থেকে যাওয়ার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি নতুন নেতৃত্ব হিসেবে শেখ হাসিনার পুত্র ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে দলের দায়িত্বশীল পদে আনার দাবি জানান তারা।
নেতৃত্ব নির্বাচনী অধিবেশনে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমার পরিবার। আওয়ামী লীগ আমার আপনজন। আওয়ামী লীগকে যত সময় দিয়েছি, আমার সন্তানদেরও এতো সময় দেই নাই।’ এরআগে দলের সর্বশেষ কার্যনির্বাহী সভায় গত ৩৫ বছর ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসা শেখ হাসিনা বলেছিলেন, অবসরে যাওয়ার সুযোগ পেলে তিনি ‘খুশি’ হবেন।
কাউন্সিলের দ্বিতীয় দিনে রোববার দলের ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র সংশোধন অনুমোদন হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, সভাপতি পদে শেখ হাসিনা থাকবেন, এটা প্রায় নিশ্চিত। সাধারণ সম্পাদক কে হবেন, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
কাউন্সিলে অংশ নেয়া নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, দলীয় প্রধান সাধারণ সম্পাদক হিসেবে যাকে দায়িত্ব দিবেন, তাকে সবাই মেনে নেবেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। জনগণের কাছে যেতে হবে। তৃতীয় দফা নির্বাচনে জয়লাভ করতে হলে জনগণের দোরগোড়ায় যেতে হবে। উন্নয়নের কথা বলতে হবে।’আর সেজন‌্য গত সাত বছরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশে উন্নয়নের চিত্র মানুষের কাছে তুলে ধরার ওপর জোর দেন তিনি।
দলকে গতিশীল করতে তরুণ ও নবীন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিকল্প নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি চাই, আমি বেঁচে থাকতে থাকতে নেতা নির্বাচন করে দলকে শক্তিশালী করে যাব। যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের পথে এগোবে আওয়ামী লীগ।’নেতাকর্মীদের সৎ থাকার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ‌্যে ‘সততা’ দেখতে চাই।
দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে কাউন্সিলরদের বাইরে কারও প্রবেশের সুযোগ থাকবে না। আজ কাউন্সিলরদের মতামতের ভিত্তিতে দলটির আগামী দিনের নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে।
আজকের আলোচনার মধ্যে রয়েছে- জেলার নেতাদের রিপোর্ট পেশ। এছাড়া কাউন্সিলরা তাদের বক্তব্য রাখার জন্য ৩ মিনিট করে সময় পাবেন। এতে সাংগঠনিক চিত্র এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন নিয়ে মতামত দিতে পারবেন। এরপর দলের গঠনতন্ত্রের সংশোধন ও ঘোষণাপত্র অনুমোদন দেওয়া হবে। গঠনতন্ত্র সংশোধনের পরপরই বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে।
মধ্যাহ্ন বিরতির পর নির্বাচন প্রক্রিয়ায় শুরু হবে। এতে কোনও পদে একাধিক প্রার্থী থাকলে ভোটের প্রয়োজন হবে। আর একক প্রার্থী হলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।
সভাপতি কে হবেন তা আগে থেকেই নির্ধারিত। তবে সাধারণ সম্পাদক কে হচ্ছেন তা নিয়ে এখনও নানা জল্পনা কল্পনা রয়েছে।
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককের নাম ঘোষণার পর নির্বাচিত সভাপতি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেবেন। এর মাধ্যমে শেষ হবে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা।
নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিশনের সদস্যরা হলেন- দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ড. মসিউর রহমান ও পার্লামেন্টারি বোর্ডের সদস্য রাশেদুল আলম।