শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ ঘুরে দাড়িয়েছে

মফিজুর রহমান কবিরঃ ‘জঙ্গি হামলা করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা যাবে না’ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো এবং দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ যে সময়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সে সময়ে বিএনপি- জামাত একটার পর একটা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে দেশের অগ্রগতিকে থামিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু জননেত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ওইসব স্বাধীনতাবিরোধীদের সকল অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিকভাবে উন্নয়নের রোড মডেল হিসেবে বিশ্বে মাথা উুঁচু করে দাঁড়িয়েছে।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে ১১ আগস্ট বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, রিয়াদ জেলা শাখা আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে বক্তারা এই মন্তব্য করেন। এতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম, প্রধান বক্তা ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল হায়দার ভুইয়া। বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সিঃসহ-সভাপতি আবুল হাসনাত সুমন ও গিয়াসউদ্দিন আহমেদ শাহবাজ।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক হোসেন তানিম।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আসাদ বেপারী- সহপাঠাগার সম্পাদক, রুবেল দাড়িয়া- সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক, মোঃ পলাশ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক, জসিম খান- প্রচার সম্পাদক, লিটন মোল্লা- সাংগঠনিক সম্পাদক, হানিফ উদ্দিন খসরু-সাংগঠনিক সম্পাদক, পাশান মোল্লা- সাংগঠনিক সম্পাদক, আব্দুল্লাহ আল মাসুদ- সাংগঠনিক সম্পাদক, শাহজাদা আরমান-দপ্তর সম্পাদক, সেলিম মৃধা- আইন বিষয়ক সম্পাদক, আব্দুল মান্নান- সদস্য, মুস্তাফিজুর রহমান- সদস্য।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রিয়াদ জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে আব্দুর রাজ্জাক- প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক, মাসুদ মাতবর- ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক, শওকত দাড়িয়া- সহ-মানব বিষয়ক সম্পাদক, সেবুল হাছান- সাহিত্য সম্পাদক, তারিখ শেখ- সহশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক, ইমাম হোসেন সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, মোস্তফা আব্দুল হামিদ- সহস্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক, মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল- সহদফতর সম্পাদক, আশরাফুল চৌধুরী- সহতথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক। এতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাওলানা সাইফুল ইসলাম।

প্রধান বক্তা সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল হায়দার ভুইয়া বলেন, দেশে দুয়েকটা জঙ্গিবাদী হামলা করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা যাবে না। তিনি যদি একবার ডাক দেন, আমার নেতা মোল্লা আবু কাওছার যদি একবার আহ্বান জানান তাহলে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে উদ্বুদ্ধ দেশে-বিদেশে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা জীবন বাজি রেখে বাংলাদেশ থেকে জঙ্গিবাদের মূলোৎপাটন করবে। তিনি আরো বলেন, মাত্র ৭ বছরে বাংলাদেশের জিডিপি ৩০ বিলিয়ন ডলার, এটা বিশ্বে তাক লাগার মতো ঘটনা। দেশের উন্নয়ন হু হু করে বাড়ছে। এত সব দেখে বিএনপি-জামাত আজ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে দেশ-উন্নয়ন থামাতে চায়। তাদের এসব জঘন্ন হিংসাত্মক কর্মকান্ডের কারণে জনসমর্থন হারিয়ে এখন তারা দিশেহারা। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষ আগামী ২১ সালে মধ্যমায়ের দেশসহ ২০৪১-এ উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।তাদের অশুভ ষড়যন্ত্র জাতির কাছে এখন পরিস্কার।

অনুষ্ঠানের সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ৭৫-এ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বিএনপি-জামাত বাংলাদেশের ইতিহাস পাল্টে দেবার যে ষড়যন্ত্র করেছিল অথচ ইতিহাসের সত্য নির্ধারণে তাদের অস্তিত্ব আজ বিলীন হতে চলেছে। একদিন আসবে, স্বাধীনতাবিরোধী এই দলগুলি ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে স্থান পাবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান বিশ্ব আজ দুইভাগে বিভক্ত। একটি ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তি আরেকটি মানবতাবাদী গণতান্ত্রিক শক্তি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সারা জীবনে মানবতাবাদী গণতান্ত্রিক ধ্যানধারণায় রাজনীতি করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছেন। তাঁর রাজনীতির মূলমন্ত্র ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা। যে কারণে দেশের আপামর জনতার নিরঙ্কুশ সমর্থনে মাত্র ৯ মাসে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়া সম্ভব হয়েছে। আমাদের প্রাণপ্রিয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে ধর্মনিরপেক্ষতার ধ্যানধারণায় দেশ পরিচালনা করার কারণেই আজ বাংলাদেশ দ্রুত সময়ের মধ্যে উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রাণপ্রিয় প্রধানমন্ত্রীর কর্মযজ্ঞের এই উন্নয়ন ধরে রাখতে তাঁর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য প্রবাস থেকে সব রকম সহযোগিতা করে সরকারের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য সকলকে আহ্বান জানান তিনি।