শিল্পকলা পদক পেলেন ২০ গুনীজন

জাকির হোসেন আজাদী: বাঙালি জাতির প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রাম ও অর্জনে এদেশের শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা নাটক, সঙ্গীত, নৃত্য, আবৃত্তি, চিত্রকর্মসহ অপরিসীম অবদান রেখেছেন। হাজার বছরের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের লালন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন আমাদের শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুদ্রত রাখতে তাঁরা নিঃস্বার্থভাবে অবদান রেখে চলেছেন। দেশের শিল্প সংস্কৃতির ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ
অবদানের জন্য গুণীজনদের অবদানকে সম্মান ও স্বীকৃতি জানাতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্দ্যোগে ২০১৩ সাল থেকে শিল্পকলা পদক প্রদান করা হয়। সেই হিসেবে আজ বিশ জনকে এই পদক প্রদান করা হয়।

আজ (২২ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার বিকাল ৪.৩০ টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এই পদক বিতরণ
অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভর্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন গণম্প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি জনাব মোঃ আবদুল হামিদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, এমপি এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব মো. আবুল মনসুর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রি কে.এম খালিদ এমপি এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন নীতিমালা অনুযায়ী ১৬ সদস্যের কমিটি প্রতি বছর পদকের জন্য গুণীজন নির্বাচন করে থাকেন।

‘শিল্পকলা পদক’-এর জন্য মনোনীত ব্যক্তি বা সংগঠনের প্রত‍্যেকে ১ (এক) টি করে স্বর্ণপদক (১ ভুরি), সনদপত্র এবং ১,০০,০০০/-(এক লক্ষ) টাকার এক প্রদান করা হয়। পদক প্রদানের জন্য তালিকাভুক্ত ক্ষেত্র ১২ টি: কন্ঠসঙ্গীত, যন্ত্রসঙ্গীত, নৃত্যকলা, নাট্যকলা, চারুকলা,
আবৃত্তি, ফটোগ্রাফি, যাত্রাশিল্প, চলচ্চিত্র ও লোকসংস্কৃতি, সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন/সংগঠক এবং সৃজনশীল সাংস্কৃতিক
গবেষক। প্রতি বছরের ন্যায় ভালিকাভুক্ত ক্ষেত্র হতে নির্বাচিত ১০টি ক্ষেত্রে ‘শিল্পকলা পদক’ প্রদান করা হয়। করোনা মহামারির কারনে শিল্পকলা পদক’ এর অনুষ্ঠান স্থগিত থাকায় এ বছর ২০১১ ও ২০২০ দু’বছর এর পদক এক সাথে প্রদান করা হয়। ২০১১ সালে একটি সংগঠনসহ দশজন ও ২০২০ সালে একটি সংগঠনসহ দশজন করে মোট বিশ জনকে এ পদক প্রদান করা হয়।

দ্বিতীয় পর্বে শুরু হয় সংস্কৃতি অনুষ্ঠান। শুরুতেই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি শিশু সংগীত দলের পরিবেশনায় সমবেত শিশু সংগীত আমরা সুন্দরের অতন্দ্র প্রহরী’ পরিবেশিত হয়। সংগীতটির সুর, ভাবনা ও পরিকল্পনায় ছিলেন লিয়াকত আলী লাকী, কথা-মাসুম সালাউদ্দিন, সংগীতায়োজনে ছিলেন ইবনে রাজন এবং নৃত্য পরিচালনা করেছে। একাডেমির শিশু নৃত্যদল পরিবেশন করেন সমবেত শিশু নৃত্য ‘শুকনো পাতার নুপুর পায়ে’।

জয়দ্বীপ পালিত এর পরিচালনায় “বিপুল তরঙ্গ রে এবং মানুষ হ মানুষ হ আবার তোরা মানুষ হ’ নৃত্য দুটি পরিবেশন করেন একাডেমির নৃত্যশিল্পীবৃন্দ। কণ্ঠ দিয়েছেন একাডেমির সংগীত শিল্পীবৃন্দ, সংগীতায়োজনে ছিলেন শেষ জসীম এবং সমবেত শিশু নৃত্যসহ তিনটি নৃত্যের ভাবনা ও পরিকল্পনায় ছিলেন লিয়াকত আলী লাকী। প্রিয়াংকা গোপ ও কিশোর দাস গেয়ে শোনান ‘জীবন সে তো পদ্মপাতায়’ এবং ফিফা চাকমা পরিচালিত ‘বাংলার বর্ণিল সংস্কৃতি (চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তংচঙ্গা, বম, মনিপুরী, গারো, হাজং, সাওতাল ও ওরা) শিরোনামে পরিবেশিত হয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী নৃত্য।

সবশেষে পরিবেশিত হয় নৃত্যালেখ্য ‘ষড়ফতু’। ফারহানা চৌধুরী বেবী পরিচালিত নৃত্যালেখ্য পরিবেশন করেন বাংলাদেশ একাডেমি অফ ফাইন আর্টস এবং ভাবনা ও পরিকল্পনা করেন লিয়াকত
আলী লাকী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন দিলরুবা সাথী ও ইমতিয়াজ আহমেদ।

২০১৯ সালের পদকপ্রাপ্তরা হলেন–

নাট্যকলায় মাসুদ আলী খান, কণ্ঠসংগীতে হাসিনা মমতাজ, চারুকলায় আবদুল মান্নান, চলচ্চিত্রে অনুপম হায়াৎ, নৃত্যকলায় লুবনা মরিয়ম, লোকসংস্কৃতিতে শম্ভু আচার্য্য, যন্ত্রসংগীতে মো. মনিরুজ্জামান, ফটোগ্রাফিতে এম এ তাহের, আবৃত্তিতে হাসান আরিফ, সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে ছায়ানট।

২০২০ সালের পদকপ্রাপ্তরা হলেন–
কণ্ঠসংগীতে মাহমুদুর রহমান বেণু, চারুকলায় শহিদ কবীর, যন্ত্রসংগীতে মো. সামসুর রহমান, ফটোগ্রাফিতে আ ন ম শফিকুল ইসলাম স্বপন, চলচ্চিত্রে শামীম আখতার, নাট্যকলায় মলয় ভৌমিক, আবৃত্তিতে ডালিয়া আহমেদ, লোকসংস্কৃতিতে শাহ আলম সরকার, নৃত্যকলায় শিবলী মোহাম্মদ, সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে দিনাজপুর নাট্য সমিতি।