শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সম্প্রীতি রক্ষার পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান

ডেস্ক রিপোর্ট: সাভারের শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা, নড়াইলে পুলিশের উপস্থিতিতে অধ্যক্ষ লাঞ্ছনা এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হেনস্তায় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
সংগঠনের সভাপতি শাহিনুর আল-আমীন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াছ হোসেন আজ ২৯ জুন এক যৌথ বিবৃতিতে সাভারের আশুলিয়ায় শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে পিটিয়ে হত্যা, নড়াইলের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসকে পুলিশের উপস্থিতিতে লাঞ্ছনা, অপমান এবং ধর্ম অবমাননার মিথ্যে অভিযোগ তুলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে হেনস্তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা জানতে পারলাম সাভারের আশুলিয়ার চিত্রশাইল এলাকার হাজী ইউনুস আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখার রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক এবং শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে (৩৫) স্কুল মাঠে স্ট্যাম্প দিয়ে বেধড়ক মারধর করে দশম শ্রেণির ছাত্র জিতু। পরে আহত অবস্থায় তাকে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন সোমবার (২৭ জুন) ভোর সোয়া ৫ টার দিকে মারা যান তিনি।
এদিকে নড়াইলের মির্জাপুর কলেজের এক শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে কয়েকজন শিক্ষার্থী এবং এলাকাবাসী অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে যান। এ সময় পরিস্থিতি বিবেচনায় অধ্যক্ষ পুলিশকে ঘটনাটি জানান এবং সুরাহা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু একটি মহল এই ঘটনাকে পুঁজি করে শিক্ষার্থীকে রক্ষার মিথ্যা অভিযোগ এনে সাম্প্রদায়িক উসকানি ছড়ায়। এ সময় স্বপন কুমার বিশ্বাসের পাশাপাশি বাংলা বিভাগের শিক্ষক শ্যামল কুমার ঘোষকেও নির্মমভাবে আহত করে। পরবর্তীতে শতাধিক পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ধর্মান্ধ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী ওই অধ্যক্ষকে জুতার মালা পরায়। যার ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনা শুধু ওই শিক্ষকের জন্য নয়, গোটা বাংলাদেশের জন্য একটি লজ্জাজনক ঘটনা।
এছাড়া বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান সঞ্জয় সরকার এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক উন্মেষ রায় এর বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, এই ধরনের ঘটনার বিচারহীনতার সংস্কৃতিই বারবার এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিচ্ছে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে শিক্ষকদের হেনস্তার সাথে জড়িতদের কঠোর শাস্তি এবং শিক্ষকদের যথাযথ নিরাপত্তা প্রদানের ও স্বপদে থেকে দায়িত্ব পালন করতে পারে তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সাথে সকল শিক্ষককে ঐক্যবদ্ধভাবে সাম্প্রদায়িক এবং ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তির আস্ফালন রুখে দাঁড়ানো ও ওই অঞ্চলসহ দেশের সর্বত্র বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি রক্ষায় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।