শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেতন-ফি বৃদ্ধি করা, বাণিজ্যিকীকরণ ও শিক্ষা সংকোচন করা চলবে না -সিপিবি

91

যুগবার্তা ডেস্কঃ সারাদেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়ন্ত্রিত ও লাগামহীনভাবে বেতন-ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। শুক্রবার, এক বিবৃতিতে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও আবু জাফর আহমেদ বলেন, “আইয়ুব খানের আমলে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টে যেভাবে শিক্ষাকে সংকুচিত করার ও তা ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার নীতি প্রণয়ন করা হয়েছিল বর্তমান ঠিক একই আদলেই শিক্ষাব্যবস্থাকে পরিচালিত করা হচ্ছে। অথচ দেশের সংবিধানে বলা হয়েছে যে জনগণের জন্য অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থানসহ শিক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান করাটি হলো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। একারণে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক যে সরকার কি দেশের সংবিধান অনুসারে চলার বদলে পাকিস্তানের ব্যবস্থায় সওয়ার হওয়ার পথ গ্রহণ করেছে?

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, শিক্ষাকে পণ্যে পরিণত করা হয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে শিক্ষার ব্যয়ভার শিক্ষার্থীদের ও তাদের অভিভাবকদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার জন্য তাদেরকে এখন একলাফে ডবল অর্থ দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। ফলে অনেকের জন্যই শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা অসম্ভব হয়ে উঠবে। এভাবে দেশে সংগোপনে শিক্ষা সংকোচন নীতি কার্য্যকর হতে থাকবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষার ব্যয়ভার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ওপর চাপিয়ে দেয়া, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ করা ও তার ফলে সুকৌশলে শিক্ষা-সংকোচন নীতি কার্যকর করার সরকারি পদক্ষেপ মেনে নেয়া হবে না। এসবের বিরুদ্ধে ও সকল নাগরিকের জন্য স্বর্বজনীন একধারার শিক্ষা নিশ্চিত করার দাবিতে সুতীব্র সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে। সেই সংগ্রামে সামিল হওয়ার জন্য অভিভাবকবৃন্দসহ দেশবাসীর প্রতি নেতৃবৃন্দ আহ্বান জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে বর্ধিত ফি আরোপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করার জন্য নেতৃবৃন্দ সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।