শিকারপুরে জুতা পায়ে শহিদ মিনার বেদিতে কলেজ অধ্যক্ষ

কল্যাণ কুমার চন্দ,বরিশাল অফিস: একুশে ফেব্রুয়ারি মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধায় ফুলে ফুলে ভরে ওঠে দেশ-বিদেশের প্রতিটি শহীদ মিনার। বরিশালের উজিরপুর উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেও দেখা গেছে একই চিত্র। কিন্তু উপজেলার শিকারপুর শের-ই বাংলা ডিগ্রী কলেজ শহিদ মিনারে দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। দিনের শুরুতেই ওই কলেজের শহীদ মিনারে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি অবমাননা করে ওই কলেজের অধ্যক্ষ। মাথায় মাতৃভাষা দিবসের ক্যাপ পড়ে জুতা পায়ে শহীদ মিনারের বেদিতে দাড়িয়ে মাইক হাতে বক্তব্য দিচ্ছিলেন ওই অধ্যক্ষ। আর সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ভাষা শহিদদের প্রতি এই অবমাননাকর কর্মকাণ্ডের বিচার দাবী করে মন্তব্যের ঝড় তুলেছেন। এই জঘন্য কাজটি করেছেন বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার শিকারপুর শের-ই বাংলা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো. তৌহিদুল ইসলাম ইরান।

২১ ফেব্রুয়ারি সকালে এ কান্ড ঘটানোর পরে দুপুর ১টার দিকে বরিশাল সমস্যা ও সম্ভাবনা ফেসবুক পেইজে সিএস চন্দন এবং বি এম মেহেদী হাসান নামের আইডি থেকে উজিরপুর,বরিশাল সমস্যা ও সম্ভাবনা পেইজে ছবিটি আপলোড করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে ওঠে।

২২ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বরিশাল সমস্যা ও সম্ভাবনা ফেসবুক পেইজে আপলোডকৃত ছবির নিচে ৩৬৩টি লাইক ও ৬৬টি মন্তব্য এবং উজিরপুর,বরিশাল সমস্যা ও সম্ভাবনা পেইজে দেয়া ছবির নিচে ১৬৪টি লাইক ও ৩৪টি মন্তব্য দেখা গেছে।

অপরদিকে অধ্যক্ষ তৌহিদুল ইসলাম নিজেকে নির্দোষ দাবী করে এই প্রতিবেদককে বলেন, ছবি যে কোন স্থানে সেট করা যায় এবং যে কোন মানুষের ছবিই পাহাড় কিম্বা সমুদ্রেও সেট করা যায়,আর আমার হাতও অনেক লম্বা,এজন্য আমি ভয় পাইনা। তবে জুতা পায়ে শহিদ মিনারের বেদিতে বক্তব্য দেয়ার ভিডিও চিত্র রয়েছে এ কথা শুনে তিনি মুঠোফোনের সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন। উল্লেখ্য, ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এর পূর্বেও বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে একাধিকবার অসৌজন্যমূলক আচরন করার অভিযোগ রয়েছে এবং নানামুখী বিতর্কেরও সম্মুখীন হয়েছেন।

২১শে ফেব্রুয়ারী জুতা পায়ে শহিদ মিনারের বেদিতে দাড়িয়ে বক্তব্য দেয়ার ঘটনায় শের-ই বাংলা ডিগ্রী কলেজের সভাপতি উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝুমুর বালা বলেন, এটা ওই অধ্যক্ষর ব্যক্তিগত ব্যাপার। এই বিষয়ে সুধি সমাজের লোকজন জানান, এটা একটি বড় অপরাধ। প্রশাসন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনুরোধ ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষী অধ্যক্ষর বিচার হওয়া উচিত।