শাহজালাল বিমান বন্দরের কার্গো কমপ্লেক্স পরিদর্শনে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী

84

যুগবার্তা ডেস্কঃ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের কার্গো কমপ্লেক্সে মালামাল রাখার শৃংখলা ও পণ্য ডেলিভারি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি এবং ১৫ দিনের মধ্যে বন্দরের ব্যবপস্থায় দৃশ্যমান অগ্রগতি আনার নির্দেশ প্রদান করে ডেটলাইনের শেষ দিন আবারও বন্দর পরিদর্শনের কথা জানান তিনি।
গত ১৩ এপ্রিল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিন দিনের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ছড়িয়ে থাকা পণ্যসমূহে কার্গো কমপ্লেক্সের পেলেটে সাজিয়ে রাখার নির্দেশের অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করতে আজ বিকেলে মন্ত্রী বিমান বন্দরের কার্গো কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কমপ্লেক্সের নতুন সংযোজন পেলেট, বে থেকে কমপ্লেক্স পর্যন্ত মালামাল নিয়ে আসা ফর্কলিফটসহ কমপ্লেক্সের বিভিন্ন কার্যক্রম ও পণ্য ডেলভারি প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করেন এবং কর্মরত শ্রমিক-কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন।
পরিদর্শন শেষে বিমান বন্দরের সম্মেলন কক্ষে দায়িত্বরত বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে হযরত প্রতিদিন কম বেশি ৩৫০ টন পণ্য আসছে এবং ২৮০ টন পণ্য ডেলিভারি হয়ে যাচ্ছে। এই বিপুল পরিমান পণ্য ডেলভারি একটি চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আরও ফর্কলিফট সংগ্রহ ও পরিচালনায় চালক নিয়োগ করা হবে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা তিন নং গেট খুলে দেয়া হয়েছে এর ফলে ডেলিভারি প্রক্রিয়ায় গতি এসেছে। ২নং গেট দিয়ে শুধুমাত্র গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির মালামাল ডেলিভারি হয়। এ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ১ নং গেট খুলে দেয়া প্রয়োজন। মন্ত্রীকে জানানো হয় একটি Consignment এ বিমানের CR (Cash Recept), ব্যাংকে টাকা জমা, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহের জন্য ১২ টার পূর্বে ডেলিভারি শুরু করা যায় না। এ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হলে ডেলিভারি প্রক্রিয়ায় বিপুল গতি সঞ্চরিত হবে। এ জটিলতা উত্তরণে মন্ত্রী প্রতিদিন রাত ৭ টা পর্যন্ত বিমানকে ঈজ কাটতে ও কাস্টমস ও ব্যাংকসমূহও একই সময় পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা প্রদান করেন। সিএন্ডএফ এজেন্টসমূহের পণ্যবাহি ট্রাকসমূহ কার্গো কমপ্লেক্সের এলোমেলোভাবে সকাল থেকে থাকার কারণে ডেলিভারি বিলম্বিত হয় বলে জানান এপিবিএন এর কর্মকর্তা। এ সময় মন্ত্রী পন্যবাহি ট্রাকসমূহকে অবশ্যই পার্কিং ব্যবহার নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নিতে এপিবিএনকে নির্দেশ দেন এবং পার্কিং ভাড়া কমাতে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে ইজারাদারের সাথে বসতে বলেন। সভায় GSE (Ground Support Equipment) এর জিএম জানান আরও জুন নাগাদ আরও পাঁচটি ফর্কলিফট সংযোজিত হবে। এবং ফর্কলিফট পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে চালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে যাদের প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব এসএম গোলাম ফারুক, সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এহসানুল গণি চৌধুরী, বিমানের এমডি মোসাদ্দেক আহমেদ, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এএইচ এম জিয়াউলহকসহ কাস্টমস, এপিবিএন, বিজিএমইএ, সিএন্ডএফসহ মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশন ও বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।