শালীনতার সাথে নিজেকে আচ্ছাদিত করলে হিজাবের প্রয়োজন নেই: মাওলানা মাসুদ

যুগবার্তা ডেস্কঃ শোলাকিয়া ঈদগাহের প্রধান ঈমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসুদ বলেন, নারী নিজেকে শালীনতার সাথে আচ্ছাদিত না করলে ইসলামের হুকুম লঙ্ঘন করা হয়। তবে শাড়ি পরেও কেউ যদি নিজেকে ঢেকে চলেন, তাহলে আলাদা বোরকা বা হিজাবের প্রয়োজন হয় না । তিনি মনে করেন ,“যতটুকু দিয়ে তার শালীনতা বজায় থাকে এবং শরীয়তে যতটুকু বলেছে, সেটা করে বের হলে নারীর দুনিয়ার কোথাও বিচরণে কোনোরূপ সমস্যা হয় না। মৌলিকভাবে কোরআনুল করিমে যেটা নাজিল হয়েছে, আয়াত সেটা বলছে, তোমরা যখন বের হও, তোমাদের চাদরটা মুখের উপর টেনে দিও। এটা হচ্ছে মূল বিষয়টা।” ফরীদ উদ্দীন মাসুদ বলেন, এখন প্রত্যেক দেশেই তার নিজস্ব সংস্কৃতি অনুসারে পর্দার রূপ বানিয়ে নিয়েছে। কেউ মনে করছেন, বোরকা পরলেই শরীর ঢাকা হয়। তাই তাদের সংস্কৃিততে বোরকা এসেছে। কোনো জায়গায় মনে করছে, চাদরটা টেনে দেওয়ার প্রশ্ন – তাহলে আমরা একটা হিজাব পরে নেই, এটা আদায় হয়ে যাবে । তাই ওনারা এটা পরছেন। কাপড়টাকে হিজাব বলা হয়নি। হিজাব হলো পর্দা, যেটা দিয়ে নিজেকে ঢেকে রাখার হয় । ইসলামের দৃষ্টিতে কোনো নারী হিজাব না পরলে তাকে পরকালে কি শাস্তি পেতে হবে এমন প্রশ্নের জাবাবে বলেন, হিজাব পরা না পরার প্রশ্ন না ,প্রশ্নটা হলো, যেটা আমরা সাধারণ ভাবে বলি, শালীনতার সাথে নিজেকে আচ্ছাদিত করা । সে যদি নিজেকে আচ্ছাদিত না করে ,তাহলে সে লক্সঘন করল এবং সেটার জন্য আল্লাহ যদি মাফ না করেন , তাহলে আল্লাহ কী শাস্তি দিবেন , আল্লাহই জানেন । পর্দা ও হিজাব প্রসঙ্গে, এখন দেখা যায়- কেউ একজন সাঁতারের পোশাক পরে মুখে একটা হিজাব টেনে নিলো, এর মানেই পর্দা হয়ে যাবে না। পর্দার ব্যাপারে যেটা বলা হয়েছে- সেটা হলো, তার অঙ্গগুলি যেন উৎকটভাবে প্রদর্শিত না হয়। সে একটা আটঁসাটঁ পোশাক পরলো আর মাথার মধ্যে একটা রুমাল গুজে দিল, এটা যে হিজাব হয়ে গেল সেটা তো নয়। এর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, নারীকে বলা হয়েছে “তোমার চলাফেরার সময় তোমার দৃষ্টিকে আনত রাখবে।” আর পুরুষকেও বলা হয়েছে, “তুমি তোমার চলাফেরার সময় দৃষ্টিকে আনত রাখবে।” ফরীদ উদ্দীন মাসুদ বলেন, নারীকে আরও বলা হয়েছে ,“তুমি তোমার শরীরকে আচ্ছাদিত করবে ।” পুরুষকেও বলা হয়েছে , “তুমি তোমার শরীর আচ্ছাদিত করবে।” আবশ্যকীয় মাত্রা কতটুকু? এর মধ্যে কিছুটা বেশ-কম করা হয়েছে । পুরুষের জন্য বলা হয়েছে- নাভীর নীচ থেকে হাটুর নীচ পর্যন্ত অবশ্যই তার আচ্ছাদিত থাকতে হবে, না হলে ফরজ লঙ্ঘন করল । নারীদের জন্য কেউ কেউ বলেন, তার হাত-পা মুখ ছাড়া বাকিটা ঢাকতে হবে। কেউ কেউ আবার বলেন, তার চেহারাও ঢাকতে হবে। ফরীদ উদ্দীন মাসুদ বলেন, হিজাব নিয়ে কোরআন শরীফের একটি আয়াতে এ নিয়ে তফসিরে ব্যাখ্যা দেয়া আছে । ব্যাখ্যা হলো -সূরা আল আহজাব এর ৫৯ নম্বর আয়াত । সেখানে বলা আছে , হে নবী , আপনি আপনার স্ত্রীগণকে বলুন এবং মোমিন নারীগণকে বলুন তারা যেন তাদের চাদরটা ঢেকে দেয় । চাদরটা টেনে দেয় তাদের চেহারার উপরে । এতে তাদের শালীনতার পরিচয় হবে। তাই তাদের বখাটেরা কষ্ট দেবে না । আল্লাহ অত্যান্ত ক্ষমাশীল , দয়ালু । কেউ যদি হিজাব না পরে বের হন- সেই ক্ষেত্রে ধর্মীও ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, প্রথমে দেখতে কতটুকু তিনি লঙ্ঘন করেছেন। লঙ্ঘনের মাত্রা অনুসারে শরীয়াহ আইন অনুযায়ী কাজি সেই ব্যাপারে তাকে সতর্ক করবে এবং তাকে বিবেচনা মতো যে বিচার করার সেটা করবে । হিজাব পরার ব্যাপারে তার পরামর্শ জানতে চাইলে, এটা তো আমার পরামর্শের প্রশ্ন না। যতটুকু দিয়ে তার শালীনতা বজায় থাকে এবং শরীয়তে যতটুকু বলেছে, সেটা করে বের হলে দুনিয়ার কোথাও বিচরণ করতে কোনোরূপ সমস্যা হবে বলে আমার মনে হয় না । – সূত্রঃ জার্মান রেডিও ডয়েচে ভেলেক