শহীদ ডা. মিলন দিবস উপলক্ষে জাসদের আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক রিপোর্ট: ১৯৯০ সালে এরশাদ সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন ও গণঅভ্যূত্থানের মহান শহীদ বিএমএ-এর তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব ও জাসদ নেতা ডা. শামসুল আলম খান মিলনের ৩১তম হত্যাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আজ ২৬ নভেম্বর বিকাল ৪ টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নুরুল আকতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, সহ-সভাপতি ফজলুর রহমান বাবুল, বীরমুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলাম, বীরমুক্তিযোদ্ধা শফি উদ্দিন মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাদের চৌধুরী, রোকনুজ্জামান রোকন, নইমুল আহসান জুয়েল, মোঃ মোহসীন, ওবায়দুর রহমান চুন্নু, মীর্জা মোঃ আনোয়ারুল হক, ঢাকা মহানগর পশ্চিম জাসদের সভাপতি মাইনুর রহমান, ঢাকা মাহানগর দক্ষিণ জাসদের সাধারণ সম্পাদক এড. মুহিবুর রহমান মিহির, জাতীয় কৃষক জোটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নুরুল আমিন কাওছার, জাতীয় শ্রমিক জোট-বাংলাদেশ এর সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, জাতীয় নারী জোটের নেত্রী এড. নীলঞ্জনা রিফাত সুরভী, জাতীয় যুব জোটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সামছুল ইসলাম সুমন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (হা-ন) কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি আহসান হাবীব শামীম প্রমূখ।

জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি তার ভাষণে শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, মিলনের আত্মবলিদানের মধ্য দিয়েই এরশাদ স্বৈরাচার বিরোধী গণআন্দোলন ’৯০ এর ঐতিহাসিক গণঅভ্যূত্থানে পরিণত হয়েছিল। গণআন্দোলন এবং গণঅভ্যূত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরশাসকের পরাজয় ও জনগণের ঐতিহাসিক বিজয় অর্জিত হয়েছিল। শহীদ ডা. মিলন কিশোর বয়সে ছাত্রজীবন থেকেই জাসদ রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন বলেই সামরিক শাসন বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলনে জীবন বাজী রেখে লড়াই করার সাহস দেখাতে পেরেছিলেন। শিরীন আখতার বলেন, ডা. মিলনসহ অসংখ্য শহীদের আত্মবলিদানের মধ্য দিয়ে সামরিক শাসনের পরজয় হলেও গণতন্ত্র এখনো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেনি। বরং বাংলাদেশ বিরোধী সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী-জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী প্রতিনিয়ত খোদ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অস্তিত্বের ভিত্তিতে আঘাত করছে। সংবিধানকে চ্যালেঞ্জ করছে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে যুদ্ধ পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অস্তিত্বের ভিত্তিকে নিরাপদ করার পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতি, ক্ষমতাবাজী, দলবাজী, লুটপাট ও বৈষম্যের অবসানের জন্য সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে নিরাপদ করে সুশাসন ও সমাজতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাবার সংগ্রামের মধ্যেই শহীদ ডা. মিলন বেঁচে থাকবেন।

এছাড়াও শহীদ ডা. মিলন দিবস উপলক্ষ্যে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি আগামীকাল ২৭ নভেম্বর শনিবার ভোর ৬টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, সকাল ৭টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে শহীদ ডা. মিলনের সমাধি এবং সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি এলাকায় শহীদ ডা. মিলনের স্মৃতি সৌধে পুস্পস্তবক অর্পণের কর্মসূচি পালন করবে।