লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দুই-ই বেড়েছে

30

যুগবার্তা ডেস্কঃ তিন দিন ধরে ঢাকাসহ সারা দেশে লোডশেডিং ও বিদ্যুৎবিভ্রাট দুই-ই বেড়েছে। ঢাকায় ৩০০ থেকে ৪০০ মেগাওয়াটসহ সারা দেশে লোডশেডিং হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট। আর বিদ্যুৎবিভ্রাট থাকায় যখন-তখন পাঁচ-দশ মিনিটের জন্য বিদ্যুতের আসা-যাওয়া চলছে।
ঢাকাসহ প্রধান প্রধান শহরে লোডশেডিং অপেক্ষাকৃত কম। তারপরও দিন-রাত মিলিয়ে তিন-চারবার লোডশেডিং হচ্ছে অনেক এলাকায়। গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুতের নতুন নতুন লাইন হচ্ছে। প্রতি মাসে কয়েক লাখ নতুন গ্রাহককে সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাঁরা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন খুব কম। সেখানে কখনো একটানা কয়েক ঘণ্টা, আবার কখনো ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং হচ্ছে।
কক্সবাজারের মহেশখালীর একজন গ্রাহক গতকাল বুধবার ঢাকায় বসে প্রথম আলোকে বলেন, গত ছয়-সাত বছরে দেশে বিদ্যুতের উৎপাদনক্ষমতা যে প্রায় তিন গুণ হয়েছে, তার প্রতিফলন গ্রামে নেই। অন্তত তাঁদের এলাকায় তো নয়ই। গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) সূত্র জানায়, দু-তিন দিন ধরে তারা বিদ্যুৎ পাচ্ছে চাহিদার তুলনায় প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট কম। বর্তমানে তাদের প্রায় দেড় কোটি গ্রাহকের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ৪ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট প্রায়। কিন্তু কয়েক দিন ধরে তারা পাচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ মেগাওয়াটের কম।
আসন্ন ঈদেও কি তাহলে গ্রামের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এ রকমই থাকবে? এ প্রশ্নের জবাবে আরইবির সূত্র বলছে, তখন শহরাঞ্চলে চাহিদা কমবে। শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকবে। তাই গ্রামে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সমস্যা হবে না। তবে ঝড়ঝঞ্ঝার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে বড় বাধা। এ ধরনের পরিস্থিতিও যত দ্রুত সম্ভব মোকাবিলার জন্য সার্বক্ষণিক কর্মীর দল প্রস্তুত রাখা হবে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ২১ জেলায় বিদ্যুৎ বিতরণ করে পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি (ওজোপাডিকো)। এই প্রতিষ্ঠানের সূত্র বলেছে, তারা চাহিদার তুলনায় ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম পাচ্ছে।
ঢাকায় বিদ্যুৎ বিতরণকারী দুটি প্রতিষ্ঠান ডিপিডিসি ও ডেসকোর সূত্রগুলো বলেছে, তাদের মোট চাহিদা প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট। এর চেয়ে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট কম পাচ্ছে তারা। অবশ্য বিদ্যুতের চাহিদা ও উৎপাদনের যে হিসাব পিডিবি দেখায়, তার সঙ্গে এই বাস্তবতার মিল নেই। পিডিবির পরিচালক সাইফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, গত মঙ্গলবার ৮ হাজার ৮৮০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ছিল ৮ হাজার ৭৫০ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল মাত্র ১৩০ মেগাওয়াট। আর গতকাল সর্বোচ্চ চাহিদা ও সম্ভাব্য উৎপাদন—দুই-ই ছিল ৯ হাজার মেগাওয়াট।
অর্থাৎ পিডিবির হিসাবে গতকাল দেশে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি ছিল না। অথচ গতকাল দিনের বেলায় ঢাকায় এবং অন্যত্র একাধিকবার লোডশেডিং প্রত্যক্ষ করেছেন গ্রাহকেরা। এর কারণ, পিডিবি উৎপাদনের যে হিসাব দেখায়, তা বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যায়ের। এই হিসাবের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিজস্ব ব্যবহার (অক্সিলারি), সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থার পদ্ধতিগত লোকসান প্রভৃতি যুক্ত করা হয় না। এসব হিসাব যুক্ত করে দেখা যায়, আট হাজার মেগাওয়াট উৎপাদিত হলে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে সাড়ে ছয় হাজার মেগাওয়াটের মতো। এ কারণে লোডশেডিং অবশ্যম্ভাবী হয়ে দাঁড়াচ্ছে।প্রথম আলো