লাইফটাইম এক্সপিরিয়েন্স

ফজলুল বারীঃ “তীব্র গরম৷ তার উপর রাস্তায় বেরোলেই যানজট৷ ঘণ্টাখানেক রাস্তায় আটকে৷ ঘেমেনেয়ে ক্লান্ত হয়ে কী করবেন? এর একটা উত্তর হতে পারে যোগাসন৷ অন্ততঃ মার্কিন মুলুকের এই মহিলার তাই মত৷ ফ্লোরিডার মারাত্মক যানজটে আটকে শেষপর্যন্ত ভারতীয় সনাতন প্রথাকেই ক্লান্তি কাটাতে বেছে নিলেন এই সাংবাদিক৷ জাতীয় সড়কের উপর চাদর বিছিয়ে করলেন ভুজঙ্গাসন৷ সহযাত্রীকে দিয়ে তোলালেন নিজের ছবিও৷ নিজের এই ছবি টুইটারে ক্রিস্টিন বর্নসেন নামের ওই মহিলা৷ নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে ক্রিস্টিন লেখেন, জাতীয় সড়কে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকায় মনের জট সরাতেই এই আসনের কথা ভেবেছিলেন তিনি৷ তাঁর মত, খুব ক্লান্ত হয়ে থাকলে এই যোগাসনই একমাত্র নিরাময় হতে পারে৷ তবে জাতীয় সড়কের মতো জায়গায় এসব খুব বেশি না করাই ভাল বলে জানিয়েছেন তিনি৷
দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে যানজটে আটকেছিলেন ক্রিস্টিন৷ মায়ামির জাতীয় সড়কে প্রায় আঁতকে ওঠার মতো যানজটে স্তব্ধ ছিল রাস্তাঘাট৷ বুধবার ক্রিস্টিনের গাড়ির পেট্রেলের অবস্থাও ছিল তথৈবচ৷ প্রথমে জানলা দিয়েই দেখেন, আশপাশে গাড়ি ছাড়া আর কোথাও কিছু নেই৷ বাধ্য হয়েই গাড়ি থেকে নেমে আসেন তিনি৷ গাড়ির ইঞ্জিনও বন্ধ করে দেন৷ উপর থেকে আশপাশটা দেখতেও নাকি মন্দ লাগছিল না তাঁর৷ নিজেকে চাঙ্গা রাখার এই উপায়ের কথা তখনই মাথায় আসে তাঁর৷ শুরু করেন ভুজঙ্গাসন৷ পাশের গাড়ির এক ব্যক্তিকে ডেকে নেন তাঁর ছবি তুলে দেওয়ার জন্য৷ সেই ছবিই টুইটারে পোস্ট করেছেন তিনি৷
মায়ামি নিউ টাইমসে চাকরি করেন ক্রিস্টিন৷ নিজের এই অভিজ্ঞতা নিয়ে সেখানে একটি ব্লগও লেখেন তিনি৷ তাঁর ছবি দেখে পাঠকরা প্রত্যেকেই সদর্থক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন৷ তবে জাতীয় সড়কের মতো স্থানে ঝুঁকি নিয়ে এমন কাজ না করার পরামর্শও দিয়েছেন অনেকে৷ এ নিয়ে অল্প-স্বল্প অপরাধবোধ যে তাঁর মধ্যে কাজ করেনি তা নয়, তাই নিজে ঝোঁকের বশে করে ফেললেও অন্যদের এমন কাজে উৎসাহ মোটেও দিতে চান না ক্রিস্টিন৷ তবে এটা নাকি তাঁর ‘লাইফটাইম এক্সপিরিয়েন্স’ ছিল৷”-লেখক: প্রবাসী সাংবাদিক