লংগদুর সঙ্গে জ্বলছে ফেসবুক

45

যুগবার্তা ডেস্কঃ লংগদুতে বাড়িতে উপজাতীদের বাড়িতে আগুনের ঘটনা নিয়ে ফেসবুক জ্বলছে। এই ঘটনাকে অনেকেই উল্লেখ করেছেন অমানবিক অত্যাচার হিসেবে।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের মালিক একজন পাহাড়ীও। তাদের ওপর এই অত্যাচারকে অপরাধ বলে উল্লেখ করেছেন সাংবাদিক অঞ্জন রায়। তিনি ফেসবুকে লিখেন, “গাইবান্ধার সাঁওতাল পল্লী বা লংগদুতে পোড়ানো বাড়ীগুলোতে যারা থাকতেন- বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী তারাও এই দেশটার মালিক। তাদের প্রতি যা করা হচ্ছে সেটি অন্যায় আচরন- অপরাধ।”
এই ঘটনার কারণে বাজেট নিয়ে আলোচনা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। তিনি লিখেন, “স্বাধীন দেশে মানুষদের এখনো পালাতে হচ্ছে ঘর বাড়ী ফেলে! প্রশাসন ঘটনার পরে দোষ খুঁজবে। কার কারণে আগুন লাগাতে হয়েছে তার বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করবে। এসব নিয়মে পরিণত হতে দিয়েছি আমরা। কাল বাজেটের নামে যে প্রহসন হল তা নিয়ে আলোচনা করারও সুযোগ দেবে না। দৌড়াও লংগদুতে।”
সোস্যাল মিডিয়া ছড়িয়ে পড়ছে লাইন ধরে পাহাড়ি মানুষরা বসতভিটে ছেড়ে চলে যাওয়ার ছবি। আর সেটি দেখে জীবন জয়ন্ত লিখেছেন এটি মানবতার কান্না। তিনি লিখেন, “পুড়ছে পাহাড়ী জনপদ-পুড়ছে মানবতা! ক্ষমতার আগুন দাবানলের মতোই ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিক। কোথাও মুক্তি নেই। আর পাহাড় সে তো সেট্লারদেরই অভয়ারন্য-আদিবাসীর প্রাণ খাঁচায় বন্দী। মানবতা ডুকড়ে কাঁদে। মানবতার এই কান্না বধির রাষ্ট্র শুনতে পায় না। নাগরিক লজ্জা বেড়েই চলেছে ক্রমাগত। মুক্তি চাই।”
পল্লব রাঙ্গেই নামে একজন শুর“র আক্রমণের বর্ণনা দিয়ে লিখেন, “ভাড়ায় চালিত বাঙালি মোটর সাইকেল ড্রাইভাবের লাশ পাওয়া যাওয়ায় সেটেলাররা তিনটিলায় পাহাড়ি গ্রাম আক্রমণ করছে, পুড়িয়ে দিচ্ছে! চারিদিকে শুধু কাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী! নিরাপদ আশ্রয়ে ছুঁটছেন শত শত মানুষ। সবাই নিরাপদে থাকুন।”
থুইকো চিং নামে একজন প্রশ্ন তুলেছেন এই দেশ কার? সেই সঙ্গে তিনি লিখেন, এই দেশ যদি কেবলই সেটেলারদের হয়ে থাকে তাহলে তাদের সবাইকে যেন গুলি করে মেরে ফেলা হয়। তিনি লিখেন, “জ্বলছে লংগুদু পাহাড়িদের গ্রাম। রাষ্ট্রের রেশনপুষ্ট সেটলাররা হামলা করল কার ইন্ধনে? নিজ জন্মভূমি গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যাবার কে চাই বলুন? এদেশ কাদের? যদি তাদেরই হয়! আমাদের সকলকে গুলি করে মেরে ফেলুন”
এদিকে ঘটনার পর পাহাড়ী বন্ধুদের কথার জবাব দিতে পারছেন না বলেও কয়েকজন লিখেছেন সোস্যাল মিডিয়ায়। ফজলুল হালিম রানা নামে একজন লিখেছেন, “আপনারা যারা দীর্ঘদিন আমাকে ফেসবুকে ফলো করেন তারা নিশ্চয়ই খেয়াল করে থাকবেন মৃণাল তনচঙ্গা নামে আমার এক আদিবাসী বন্ধু আছেন। আদিবাসী আরো অনেকেই ছাত্র জীবন থেকে আমার ভাল বন্ধু। তবে মৃণাল দা তাঁদের মধ্যে ব্যতিক্রম। কারণ তাঁর সাথে আমার সম্পর্কটা আত্মিক।
আজকের পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে পাহাড়ীদের ঘরবাড়ী এবং দোকানপাটে অগ্নিসংযোগের ঘটনা বিবিসি এবং সোস্যাল মিডিয়ায় দেখে মৃণাল দাকে আমি ফোন করেছিলাম।
মৃণাল দা অপর প্রান্ত থেকে ভেজা কণ্ঠে যা বললেন তা হল, পাহাড়ে আগে বিভিন্ন কারণে আমাদের বুকে আগুন জ্বলত এবার বাড়ী-ঘরে জ্বলতেছে। যে রাষ্ট্র আমাদের বুকের আগুন দ্যাখে না সেই রাষ্ট্র কি করে আমাদের ঘরের আগুন দেখবে? আমি মৃণালদাকে কিছু বলতে পারিনি।”-আমাদের সময়.কম