লংগদুতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে নাগরিক সমাবেশ

যুগবার্তা ডেস্কঃ রোববার সকালে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে ঢাকার শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে রাংগামাটি জেলার লংগদুতে পাহাড়ী গ্রামে সাম্প্রদায়িক হামলা, অগ্নিসংযোগ এর প্রতিবাদে নাগরিক প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।
উক্ত সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. জোবাইদা নাসরিন কণার সঞ্চালনায় এবং বিশিষ্ট কলামিস্ট ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সদস্য উষাতন তালুকদার এমপি, সাবেক তথ্য কমিশনার অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের সদস্য খুশী কবীর, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জিয়াউদ্দিন তারিক আলী, বিশিষ্ট নাট্যকার মামুনুর রশীদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কবি মুহাম্মদ সামাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মেজবাহ কামাল, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট রাণা দাশ গুপ্ত, মানবাধিকার কর্মী নুমান আহম্মদ খান, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদের প্রেসিডিয়াম সদস্য রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের নেতা দীপায়ন খীসা, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, জাস্টিস এন্ড পিস কমিশনের থিওফিল নকরেক, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জি এম জিলানী প্রমুখ।
প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে মূল বক্তব্য ও দাবীনামা পেশ করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন। প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে টিএসসি গিয়ে শেষ হয়।
সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, কোন গণতান্ত্রিক দেশে গণতান্ত্রিক সভ্য সমাজে এই ধরনের ঘটনা সত্যিই ন্যক্কারজনক ও নিন্দনীয় । তিনি বলেন, একটা খুনের বিপরীতে কেন ৩০০ টি ঘরবাড়ি স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে পুড়িয়ে দেয়া হবে। তিনি এই ঘটনার সাথে জড়িতদের তদন্তপূর্বক দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টন্তমূলক শাস্তির দাবি করেন
অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে আদিবাসীদের ও অবদান ছিল । পার্বত্য চট্টগ্রামে বহুত্ববাদ প্রচলন রয়েছে । কেউ যদি সন্ত্রাসী হামলায় শিকার হয়ে মারা যায় তাহলে সেখানে দেশের রাষ্ট্রীয় আইনে দোষীদের শাস্তি দেয়া উচিত।
উষাতন তালুকদার বলেন, লংগদু তিনটিলা থেকে মানিকজুরছড়া প্রায় তিন মাইল হবে অথচ নিরাপত্তা বাহিনাী ছিল তারপরও সেখানে অগ্নিসংযোগ-লুটপাট হামলা করা হয়েছে। যেহেতু সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে কেরোসিন, পেট্রোল দিয়ে পাহাড়ীদের বাড়িঘরে আগুন দেয়া হয়েছে সেহেতু বলা যায় উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিতভাবে হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে সভ্য দেশে এ ধরনের সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা কখনো কাম্য হতে পারেনা । তিনি আরো বলেন লংগদু পাহাড়ীরা বারবার এই ধরনের হামলা শিকার হয়েছে । ১৯৮৯ সালে ৪মে সেখানে গণহত্যা সংঘঠিত হয়েছিল। এযাবত এধরনের ঘটনার কোনটাই বিচার হইনি। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো সরকার বাস্তবায়ন করছেনা। পাহাড়ীরা এখন মানবেতর দিনযাপন করছে। তিনি সকল প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোকে এ ঘটনার ব্যাপারে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
খুশি কবির বলেন, লংগদু ঘটনায় দেশের সরকার নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। এদেশে একটি ধর্ম, একটি জাতি ছাড়া অন্য কাউকে বাচতে দেয়া হবে না, তাদের উপর সাম্প্রদায়িক হামলা ন্যক্কারজনক। তিনি আরো বলেন এই সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৪০০ জনকে আসামী করে মামলা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় সম্পৃক্ততার জন্য স্থানীয় আইন শৃংখলা বাহিনীকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত।
নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ বলেন, দেশে অসংখ্য ঘটনা ঘটছে। কোনো সভ্য দেশে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটতে পারে? আইনের লোকেরা কোথায় ছিল? দুঃখের বিষয়, এই রাষ্ট্রকে কিছুতেই মানবিক করা যাচ্ছে না। এই ঘটনা নিন্দনীয় এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দীর্ঘ তিন ঘন্টাব্যাপী আগুন জ্বলছে। কোথায় গেলো সেনাবাহিনী, পুলিশ, আইনশৃংখলা বাহিনী।