র‌্যাব-এর তালিকায় এখন নিখোঁজ ৬৫

22

যুগবার্তা ডেস্ক: র‌্যাব’র নিখোঁজ তালিকার ৬৫ জন এখনও লাপাত্তা। কোনো হদিস নেই তাদের। মোবাইল ফোন বন্ধ এবং সামাজিক যোগাযোগের কোনো মাধ্যমেই সক্রিয় নন। নিজ পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন তারা। এলিট ফোর্স র‌্যাব’র পক্ষ থেকে ২০১৬ সালের ২০শে জুলাই ২৬২ জন নিখোঁজের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকাটি তিন দফায় সংশোধন করা হয়। তাদের বয়স ১৫ থেকে ৪০ এর মধ্যে। তাদের মধ্যে নারীও রয়েছে। র‌্যাব নিজ উদ্যোগে নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। গতকাল পর্যন্ত র‌্যাব’র নিখোঁজ তালিকায় ৬৫ জন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে র‌্যাব’র আইন ও গণমাধ্যম বিভাগের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, যারা জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত তারা অনেকদিন ধরে নিখোঁজ ছিল। র‌্যাব’র পক্ষ থেকে একটি তালিকা করা হয়। তিনি আরও জানান, ওই তালিকায় দেখা গেছে অনেকজন পরিবারের সঙ্গে রাগারাগি করে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। পরে দুই দফায় তালিকাটি সংশোধন করা হয়। সর্বশেষ নিখোঁজদের হালনাগাদ তালিকায় ৬৫ জন ছিল। তাদের সন্ধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
র‌্যাব’র গোয়েন্দা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১লা জুলাই রাতে ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনার ঘটে। এতে মোট ২৮ জন নিহত হয়। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ৭ই জুলাই কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতে হামলার ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানতে পারে যে, যারা জঙ্গি হামলায় জড়িত বা জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত তারা সবাই বাড়ি থেকে দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ছিল। নিখোঁজদের বিষয়ে তথ্য পেতে ওই তালিকা প্রকাশ করা হয়।
সূত্র জানায়, গুলশান হামলার ঘটনায় জড়িত জঙ্গি ইমতিয়াজ ২০১৫ সালের ৩০শে ডিসেম্বর নিখোঁজ হয়।
এছাড়াও মাদারীপুরের শিক্ষক হত্যাকাণ্ডের চেষ্টা ঘটনায় হাতেনাতে গ্রেপ্তারকৃত ফাহিমও তিনদিন আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। উগ্রমতবাদে বিশ্বাসী হওয়ার পর জঙ্গিরা মনে করেছে যে, পরিবারের মধ্যে থেকে জঙ্গি কার্যক্রম চালাতে অসুবিধা হতে পারে। এজন্য তারা পরিবার থেকে বিছিন্ন হয়ে লাপাত্তা হয়েছে। এদের কেউ ২ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত পরিবার থেকে বিছিন্ন ছিল।
সূত্র জানায়, র‌্যাব’র তালিকায় দেখা গেছে যারা নিখোঁজ তাদের বেশিরভাগই হচ্ছে উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তের সন্তান। তাদের পরিবারের মধ্যে কোনো অভাব অনটন ছিল না। এর মধ্যে কয়েকজন নারীও রয়েছে। তারা ঢাকার নামিদামি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছে। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।
তারা নিজেরাই তাদের ফেসবুক ব্লক করেছে বলে র‌্যাব জানতে পেরেছে। এজন্য তাদের খুঁজে বের করাও সম্ভব হচ্ছে না। তবে তাদের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
র‌্যাব’র গোয়েন্দা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, যে ৬৫ জন র‌্যাব’র তালিকায় নিখোঁজ রয়েছে তারা হলেন- ডা. রোকনউদ্দীন খন্দকার (৫০), নাঈমা আক্তার (৪০), রেজওয়ানা রোকন (২৩), রামিতা রোকন (১৭) ও সাদ কায়েস (৩০) এবং মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ (৩৫), তাহমিদ রহমান সাফি (৩০), মো. মহিবুর রহমান (৩০), মো. সাজ্জাদ রউফ (২৪), ডা. আরাফাত হোসেন তুষার, খান মো. মাহমুদুল আহসান রাতুল (২৩), কাজী মো. মইনউদ্দিন শরীফ (৩০), মো. তাওসিফ হোসেন (২৩), জুবায়েদুর রহিম, ইব্রাহীম হাসান খান (২৫), জুনায়েদ হাসান খান, এএসএম ফারহান হোসেন (২৯), মনোয়ার হোসেন (৩০), আশরাফ মোহাম্মদ ইসলাম (৪০), মো. বাদশা আলী (২৫), মো. সুমন (২৮), মো. আশিক ওরফে সাব্বির রহমান (১৬), নজিবুল্লাহ আনসারী (২৭), মো. শরিফুল ইসলাম (৪০), রাহাত বিন আবদুুল্লাহ (২৬), বেলাল মোল্লা সোহেল (২২), মো. মাজেদুল হক (৩৫), আমান উল্লাহ আমান (২৪), মো. কামরুজ্জামান (২৩), মো. সাহারাত আলী (২৬), হাসানুর রহমান (২৯), মো. তৌহিদুল ইসলাম (২০), হাসান আলী (৩৭), ফারুক হোসেন (৩৭), সুমন হোসেন, রাশেদ হোসেন (২৫), শাহজাহান (৩৩), মো. তাজুল ইসলাম চৌধুরী (৩৮), মো. জাকির হোসেন (২৮), আশরাফুজ্জামান (৩২), মো. শাহরিয়ার খান ওরফে শাহজাহান (৩৩), সাদমান হোসেন (পাপন) (২৩), মো. আকরাম হোসেন (২৫), মো. হাবিবুল্লাহ (২৬), জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (২৬), মো. ইমরান (২২), এটিএম তাজউদ্দিন (৩৬), মো. হাবিবুর রহমান (১৭), মো. ইসমাইল হোসেন (২২), মো. মিন্টু রহমান ওরফে বৈরাগী মিন্টু (২৭), মহিদুল ইসলাম ওরফে মিশুক (১৭), রাকিবুল ইসলাম ওরফে রিয়েল (২৪), মিন্টু মিয়া (৩৫), রেজাউল করিম (২৬), ইকবাল হোসেন (২০), জাহাঙ্গীর আলম (২৫), মকসুদ আলী (২৫), আবদুুল হামিদ (৩০), রিয়াজ উদ্দিন (১৫), জহিরুল ইসলাম (১৬), সাখাওয়াত হোসেন (২৮), সাদ কায়েস (৩০) এবং মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ (৩৫), রাশেদুজ্জামান (৩৫) এবং আকবর হোসেন (৩৫) ও শাহেদ আলী (২৮)।-মানবজমিন