রাসায়নিক পরীক্ষাগার নির্মাণে অগ্রগতি নেই

2

ডেস্ক রিপোর্ট: রাসায়নিক পরীক্ষাগার না থাকায় স্থলবন্দরগুলোতে আমদানি করা ফলমূলের ফরমালিন পরীক্ষা করা হচ্ছে না। আর চট্টগ্রাম কাস্টমসে পরীক্ষাগার থাকলেও লোকবলের স্বল্পতায় পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। যদিও আমদানি করা ফলমূল পরীক্ষা করতে এবং দেশের সব স্থলবন্দরে রাসায়নিক পরীক্ষাগার নির্মাণ করতে উচ্চ আদালত নির্দেশ দিয়েছিলেন। ৯ বছর আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

২০১০ সালে করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালে আদালত দেশের সব স্থল ও নৌ-বন্দরে ৬ মাসের মধ্যে রাসায়নিক পরীক্ষাগার স্থাপন এবং আমদানি করা ফলমূল কেমিক্যালমুক্তকরণ নিশ্চিত করতে এনবিআরকে নির্দেশ দেন। এর ৮ বছর পর চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি পরীক্ষাগার স্থাপনের অগ্রগতি প্রতিবেদন এনবিআর উচ্চ আদালতে জমা দেয়। এর পরিপ্রক্ষিতে ২০ জানুয়ারি আদালত এনবিআরকে আরও তিন মাস সময় দেন। কিন্তু আট মাস পেরিয়ে গেলেও পরীক্ষাগার নির্মাণ কাজের অগ্রগতি নেই।

এনবিআর সূত্র জানায়, স্থলবন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়তা দিচ্ছে এডিবি (এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক)। এর আওতায় পরীক্ষাগারও নির্মাণ করা হবে। ঢাকার তেজগাঁও এলাকায় একটি কেন্দ্রীয় ল্যাবরেটরি নির্মাণের লক্ষ্যে গঠিত কমিটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নের কাজ করছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ফিজিবিলিটি টেস্ট) কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে বর্তমানে পুরোদমে কাজ চলছে।

সূত্র আরও জানায়, চট্টগ্রাম ও বেনাপোল দিয়ে বেশি ফল আমদানি হয়। এ দুটি বন্দরে রাসায়নিক পরীক্ষাগার আছে। বাকি স্থলবন্দরগুলোতে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ফরমালিন পরীক্ষা করা হয়। এ পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ফল খালাস করা হয়। এদিকে, ৩০ সেপ্টেম্বর পরীক্ষাগারে লোকবল স্বল্পতার কথা উল্লেখ করে ফলের ফরমালিন পরীক্ষা বন্ধ রাখার দিকনির্দেশনা চেয়ে এনবিআরে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস। চিঠিতে বলা হয়, প্রতিদিন গড়ে ১০০টি চালানের বিপরীতে আমদানি করা ফলমূলের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। ল্যাবে একজন পরীক্ষক আছেন। নমুনা পরীক্ষা করতে দিনের অর্ধেকের বেশি সময় ব্যয় হয়। ফলমূল ছাড়াও অন্যসব পণ্যের ৫০টির বেশি নমুনা ল্যাবে প্রতিদিন পাঠানো হয়।

একজন পরীক্ষককে দিয়ে এত নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষা করায় চালান খালাসে বিলম্ব হচ্ছে। শুরুর দিকে ফলে ফরমালিনের উপস্থিতি পাওয়া গেলেও এখন পাওয়া যায় না। এছাড়া বেনাপোল, সোনামসজিদ, ভোমরাসহ বিভিন্ন স্থলবন্দরে ফলের পরীক্ষা করা হয় না। তাই পরীক্ষাগারে নতুন জনবল না আসা পর্যন্ত ফরমালিন টেস্ট বন্ধ রাখতে চিঠিতে দিক-নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

যুগান্তরের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি সুভাষ চৌধুরী জানান, ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা ভারতীয় ফলের ফরমালিন পরীক্ষা করা হয় না। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে পরীক্ষা করা হলেও করোনা সংক্রমণের শুরুতেই তা বন্ধ হয়ে যায়। যদিও নানা কারণে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ফল আমদানিতে ধস নেমেছে। দুই বছর আগে এ বন্দর দিয়ে দৈনিক শতাধিক ট্রাক ভর্তি ভারতীয় ফল এলেও এখন মাত্র ১০ থেকে ১২টি ট্রাক আনার ও কমলা ঢুকছে। মাঝে মধ্যে দু-একটি ট্রাকভর্তি আপেল ও আঙুর আসে।

ভোমরা কাস্টমসের সহকারী কমিশনার আমির মাহমুদ জানান, ফলমূলের ফরমালিন পরীক্ষা হচ্ছে না। নানা কারণে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের ফরমালিন পরীক্ষা ইউনিটটি বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া ফরমালিন পরীক্ষার জন্য কাস্টমসের কোনো মেশিনারিজ সাপোর্ট না থাকায় পরীক্ষা ছাড়া ফল খালাস করতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য পরিদর্শক রবীন্দ্রনাথ সরকার জানান, বর্তমানে ফরমালিন পরীক্ষার রিএজেন্ট সাপোর্ট পাওয়া যায় না। এছাড়া ফলের প্রোটিনের ফরমালিন গ্রহণ ক্ষমতা না থাকায় তা পরীক্ষা করা হচ্ছে না। তিনি জানান, ফরমালিন পরীক্ষা শুধু প্রাণিজ খাদ্য প্রোটিনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

তবে ভোমরা বন্দরের কোয়ারেন্টিন উপ-পরিচালক অনুপ বিশ্বাস জানান, ফলসহ সব ধরনের পচনশীল দ্রব্যে কোনো জীবাণু বা পোকামাকড় রয়েছে কিনা তা স্যাম্পল নিয়ে পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে।

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি কামাল হোসেন জানান, ভারত থেকে আমদানি করা ফলের ফরমালিন পরীক্ষা করা হয় না। স্থানীয় উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র শুধু জার্মিনেশন পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দেয়। প্রতিদিন ভারত থেকে এ বন্দর দিয়ে ৭০-৮০ ট্রাক লেবু, আপেল, আনার, মালটা ও আঙুর আমদানি হয়। শুধু শুল্ক-কর আদায় করে ফলের চালান খালাস করা হয়।

এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার আজিজুর রহমান বলেন, বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি করা ফলমূলে ফরমালিন পাওয়া যায়নি। কারণ ভারত থেকে যেসব ফল আমদানি হয় তা সরাসরি বাগান থেকে তুলে বাংলাদেশে রপ্তানি করা হয়। ১-২ দিন দেরি হলে ফলে পচন ধরতে শুরু করে। সমুদ্রপথে আমদানি করা ফল দেশে আসতে দীর্ঘ সময় লাগায় পচন ঠেকাতে ফরমালিন দেওয়া হয়।