রাষ্ট্রকে ধর্মনিরপেক্ষ হতে হবে : পোপ

42

যুগবার্তা ডেস্কঃ পোপ ফ্রান্সিস মনে করেন, রাষ্ট্রকে অবশ্যই ধর্মনিরপেক্ষ হতে হবে। রোমান ক্যাথলিক এই ধর্মগুরুর মতে, একটি সফল ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রের চাবিকাঠি তার ধর্মনিরপেক্ষতা এবং শক্তিশালী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্যে নিহিত। এ দুয়ের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ব্যবস্থাই পারে সব ধর্ম ও মতাবলম্বী মানুষের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে। গতকাল মঙ্গলবার রোমান ক্যাথলিক ধারার ফরাসি সংবাদপত্র লা খোঁয়ায় প্রকাশিত সাক্ষাত্কারে পোপ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘এক ধর্মের প্রতিনিধিত্বকারী রাষ্ট্রের পরিণাম ভালো হয় না…আমার বিশ্বাস, ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে শক্তিশালী আইনের শাসন সব ধর্মের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে। আর এটাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার রূপরেখা।’ রাষ্ট্রকে অবশ্যই সমালোচনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, ‘সেটাই সত্যিকারের ধর্মনিরপেক্ষতা।’ সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপে ইসলামের বিস্তারের পরিপ্রেক্ষিতে খ্রিস্টান ধর্ম নিয়ে ভীতি ছড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করে পোপ বলেন, সবারই অধিকার রয়েছে তার নিজের পছন্দমতো ধর্ম বেছে নেওয়ার এবং চর্চা করার। আর একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র সেই সুযোগ করে দেয়। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই সমান, ঈশ্বরের সন্তান। যদি একজন মুসলমান নারী হিজাব পরতে চায়, তবে তাঁকে অবশ্যই তা পরতে দিতে হবে। একইভাবে একজন ক্যাথলিকের ক্রস পরার অধিকার আছে।’ পাশাপাশি পোপ বলেন, ‘চলতি ইসলামপন্থী সন্ত্রাসবাদের মুখে আমাদের উচিত অতি পশ্চিমা ছাঁচের গণতন্ত্র ইরাক ও লিবিয়ার মতো দেশগুলোয় রপ্তানি করার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন করা, যেখানে সমাজের নিজস্ব গোষ্ঠীগত ধরন ছিল।’ এসব সংস্কৃতিকে আমলে না নিয়ে এগিয়ে যাওয়া যাবে না বলে মত দেন পোপ। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি এক লিবীয় বলেছেন, আমরা একজন গাদ্দাফিতেই অভ্যস্ত ছিলাম, আর এখন হয়েছে ৫০ জন।’ এসব বিষয়কে ‘সাংস্কৃতিক ঔপনিবেশিকতা’ আখ্যা দিয়ে প্রায়ই বিষয়গুলো নিয়ে সমালোচনা করেন পোপ ফ্রান্সিস। তিনি বলেন, এই নয়া ঔপনিবেশিকতার মাধ্যমে পশ্চিমা দেশগুলো অর্থনৈতিক সহায়তার বিপরীতে নিজেদের মূল্যবোধ উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দিতে চেষ্টা করে। প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে লিবিয়ার স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে দেশটিতে অরাজকতা চলছে।কালের কন্ঠ