রামেকে নবজাতকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য! রামেকে নবজাতকের মৃত্যু নিয়ে রহস্য!

রাজশাহী প্রতিনিধিঃ নবজাতক শিশুর মায়ের বয়স ১৩। কাজ করেন গৃহকর্মীর। কিন্তু গৃহকর্তার লালসার শিকার হয়ে তিনি অন্তঃসত্তা হয়ে পড়েন। পরে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন তিনি। কিন্তু ওই রাতেই শিশুটিকে ফেলে মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন কিশোরীর বাবা-মা। এক পর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ধরে ফেলে।

পরে শুক্রবার ভোররাতে হাসপাতালে শিশুটির মৃত্যু হয়। শিশুটির এই মৃত্যু নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। জন্মের মাত্র ৬ ঘন্টার মাথায় শিশুটির স্বাভাবিক মৃত্যু হলো, নাকি কোনোভাবে তাকে হত্যা করা হলো-এসব প্রশ্ন উঠেছে। তাই শুক্রবার বিকেলে শিশুর মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। নগরীর রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, ১৩ বছরের ওই কিশোরীর বাবা রাজশাহী শহরে রিকশা চালান। আর ওই কিশোরী এবং তার মা অন্যর বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। তাদের গ্রামের বাড়ি রংপুরে। রাজশাহী মহানগরীর নতুন বিলশিমলা এলাকায় তারা ভাড়া থাকেন।

ওসি জানান, নতুন বিলশিমলা এলাকার কিরণ নামে এক ব্যক্তির বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন ওই কিশোরী। সে সময় কিরণ ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করেন। এক পর্যায়ে ওই কিশোরী অন্তঃসত্তা হয়ে পড়েন। পরে বৃহস্পতিবার রাতে রামেক হাসপাতালে ওই কিশোরী একটি মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে ওই কিশোরীর বাবা-মা নবজাতক শিশুটিকে ফেলেই পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা সব ঘটনা খুলে বলেন। এর কিছুক্ষণ পরেই শিশুটির মৃত্যু হয়। ফলে শিশুটির এই মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তিনি জানান, শুক্রবার বিকেলে শিশুটির মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। তবে ময়ানতদন্তের প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদন পেলে জানা যাবে- শিশুটির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে। তখন এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওসি আমান উল্লাহ বলেন, ‘ওই কিশোরীকে রামেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস (ওসিসি) সেন্টারে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাকে ধর্ষণের ঘটনায় থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে। আর ঘটনাটি শোনা মাত্রই অভিযুক্ত কিরণকে আটক করতে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।’