রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র কার স্বার্থে-খালেদা জিয়া

যুগবার্তা ডেস্কঃ সুন্দরবনের রামপালে প্রস্তাবিত কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পকে হঠকারী, অযৌক্তিক ও অলাভজনক আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ দাবিতে জনগণকে সোচ্চার হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘পরিবেশ বিবেচনায় না নিলেও জেনেশুনে সরকার কী উদ্দেশ্যে, কার স্বার্থে লোকসানি প্রকল্প রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে জড়ালো?’

বুধবার বিকাল ৫টায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রামপাল নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সুন্দরবন ধ্বংস হলে বাংলাদেশ আর বাসযোগ্য থাকবে না বলে মন্তব্য করে বিএনপিপ্রধান বলেন, একদিকে পদ্মা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এর ফলে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে ব্যাপক মরুকরণ শুরু হয়েছে। এখন দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হলে সুন্দরবন ধ্বংস হলে বাংলাদেশ আর বাসযোগ্য থাকবে না।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ প্রয়োজন, তবে তা দেশের স্বার্থের পরিপন্থি ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হলে তা অবশ্যই দেশবিরোধী। বিদ্যুৎ উৎপাদনের নানা বিকল্প আছে, কিন্তু সুন্দরবনের কোনো বিকল্প নেই।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, সুন্দরবনের এত কাছে স্থাপিত কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের অনিবার্য অশুভ ও মারাত্মক ক্ষতিকর। সব প্রমাণ উপস্থাপনের পরেও সরকার তার অবস্থান পরিবর্তনে শুধু অস্বীকৃতি জানাচ্ছে না, বরং আরও দ্রুত এ গণবিরোধী দেশবিরোধী বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো, এ সরকার স্বৈরাচারী বলেই জনমত বা দেশের স্বার্থ পরোয়া করে না।

খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, এ কেন্দ্র হলে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে এবং পরিবেশ নষ্ট হবে, পানি দূষিত হবে। বনাঞ্চলের পশু পাখির জীবনচক্র ক্ষতির মধ্যে পড়বে। তিনি বলেন, জনগণের চাহিদা মেটানোর জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন সময়ের দাবি। কিন্তু সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নে জনস্বার্থ বা জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বিকল্প বিদ্যুৎ ও বিকল্প জ্বালানির সন্ধান করার আহ্বান জানান। তবে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদে কোনো ধরনের কর্মসূচির ঘোষণা দেননি খালেদা জিয়া।