রামপালসহ সুন্দরবন বিনাশী প্রকল্প ৫ কোটি মানুষকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফেলবে

54

খুলনা অফিসঃ উপকূলীয় অঞ্চলের ৫ কোটি মানুষের জীবন ও সম্পদের জন্য হুমকি রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সুন্দরবন বিনাশী অপতৎপরতা বন্ধ, এ অঞ্চলের মানুষের জন্য প্রকৃতিবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ঘরে ঘরে সূলভে গ্যাস ও বিদ্যুৎ এর দাবীতে ২০ এপ্রিল বিকাল ৪টায় খুলনার শহীদ হাদিস পার্কে উপকূলীয় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহবানে বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষের এই সমাবেশে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের মিথ্যাচার ছড়িয়ে সরকার রামপাল প্রকল্পসহ সুন্দরবন বিনাশী অপতৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এ সব প্রকল্পে প্রয় ৫০ লক্ষ মানুষ জীবন-জীবিকা হারিয়ে উদ্বাস্তেু পরিনত হবেন, ৫ কোটি মানুষকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে অরক্ষিত করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণের বোঝা চাপবে বাংলাদেশের ঘাড়ের উপর। ভারতীয় কোম্পানী লাভ করবে ভারতিয় হ্যাবি ইলেট্রিক কোম্পানি নির্মাণ কাজ করে মুনাফা লাভ। করবে ভারতীয় কম্পানি কয়লা জোগান দিয়ে মুনাফা করবে। আর এক্সিম ব্যাংক ঋনের ব্যবসা করবে। বাংলাদেশের ভাগে থাকবে শুধু লোকসান ও সর্বনাশ। বেশি দামে বিদ্যুৎ, দীর্ঘমেয়াদী ঋণ আর সর্বপোরি বাংলাদেশে প্রধান প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুন্দরবনে অনিবার্য ধ্বংস করবে। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ আরো বলেন, সুন্দরবনের কাছে বেআইনি ভাবে জমি বন দখল করছে, যারা কমিশন ভোগি, যারা ভাড়াটে বিশেষজ্ঞ তারা ছাড়া দেশে বিদেশের বিশেষজ্ঞ এবং জনগন সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলনের শক্তি। উন্নয়নের অনেক বিকল্প আছে কিন্তু সুন্দরবনের কোন বিকল্প নেই। অবিলম্বে প্রকল্প বাতিল না হলে রামপাল মার্চসহ কঠিন কর্মসূচী ঘোষনা করেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। কর্মসূচীর মধ্যে ২৫ এপ্রিল থেকে ২৫ জুন উপকূলীয় অঞ্চলে জেলা উপজেলায় সভা, সমাবেশ ও গণসংযোগ। মে মাসে সরকারের ব্যয়বহুল পরিবেশ বিধ্বংশি, ঋণ নির্ভর বেশি দামের বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনার বিপরিতে সুলভ, পরিবেশ বান্ধব, ঋণ বা অপচয় মুক্ত ও দেশের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য বিকল্প বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা উপস্থাপন ও দেশ ব্যাপি তা নিয়ে জনমত গঠন।
১৫ জুলাই দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলে টেকসই পরিবেশ বান্ধব কর্মসংস্থান নির্ভর উন্নয়নের পরিকল্পনা উপস্থাপন। ২৫ জুলাই শ্যামনগর থেকে শরণখোলা উপকূলীয় মানুষদের মানববন্ধন এবং তার সঙ্গে সংহতি জানিয়ে দেশে-বিদেশের সংহতি কর্মসূচী। ৯ সেপ্টেম্বর সুন্দরবন আন্দোলনে যুক্ত সকল দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞ, সংগঠন ও ব্যক্তিদের নিয়ে আন্তর্জাতিক সুন্দরবন কনভেশন। এর মধ্যেও রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সুন্দরবন বিনাশী প্রকল্প বাতিল না করা হলে রামপাল মার্চ, দেশব্যাপী হরতালসহ আরো কঠোর কর্মসূচী নেওয়া হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ভারত ও আন্তর্জাতিক আইনী প্রক্রিয়ার সহায়তায় প্রকল্প বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। মহাসমাবেশে বক্তব্য রাখেন টিপু বিশ্বাস, রুহিন হোসেন প্রিন্স, বজলুর রশিদ ফিরোজ, মনিরুল হক বাচ্চু, এ্যাড. রুহুল আমীন, জনার্দন দত্ত নান্টু, মুনীর চৌধুরী সোহেল, রূহুল আমীন, কাজী দেলোয়ার হোসেন, এ্যাড. এস এম শাহ নেওয়াজ আলী, এ্যাড. মোঃ বাবুল হাওলাদার, এম এ কাশেম প্রমুখ। মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় কমিটির খুলনার সংগঠক ডাঃ মনোজ দাস। মহাবেশ পরিচালনা করেন জেলা আহবায়ক এস এ রশীদ এবং সদস্য সচিব মোস্তফা খালিদ খসরু।