রাবি শিক্ষক হত্যায় অংশ নেয় গুলশানে নিহত জঙ্গি বাঁধন

রাজশাহী অফিসঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকান্ডে অংশ নেওয়া একজন গুলশান হামলায় নিহত জঙ্গি খায়রুল ইসলাম বাঁধন। বাঁধন, খালিদ, বাইক হাসান এবং সাকিব সরাসরি এই হত্যা মিশনে অংশ নেয়। এছাড়া আরো কয়েকজন ছিল যারা এই হত্যাকান্ডে সহায়তা করে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এসব তথ্য জানায়।

সূত্র জানায়, গুলশানে হলি অর্টিজন বেকারিতে হামলায় জড়িত জেএমবি জঙ্গি খায়রুল ইসলাম বাঁধন ছিল শিক্ষক রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যাকান্ডে জড়িতদের অন্যতম। তার বাড়ি বগুড়ার শাহাজাদপুর উপজেলার বৃ-কুস্টিয়া গ্রামে। বাবার নাম আবু হোসেন।

এক বছর আগে সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। অপর দুই জড়িত রাজশাহীর বাগমারার শরিফুল ইসলাম খালিদ এবং পঞ্চগড়ের নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক হাসানকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ। অপর অভিযুক্ত মাসকাওয়াথ হাসান ওরফে সাকিব রয়েছে জেল হাজতে।

রেজাউল করিম সিদ্দিকীর স্ত্রী হোসনে আরা বলেন, যার মাথা থেকে এই হত্যার পরিকল্পনা উঠে আসে তাকে বিচারের কাঠগড়ায় আনা জরুরী। হত্যাকান্ডের পরে পুলিশ প্রথম দিকে তৎপর ছিল। অথচ এখন তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এ মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হয় নি।
জানতে চাইলে চাঞ্চল্যকর এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক রেজাউস সাদিক বলেন, অধ্যাপক সিদ্দিকী হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত খায়ররুল ইসলাম বাঁধন গুলশানে নিহত হয়েছে। অপর দুই আসামীকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। মামলার অগ্রগতি হচ্ছে না, এমন অভিযোগ ঠিক নয়। দ্রুতই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।

এ বছরের ২৩ এপ্রিল রাজশাহী মহানগরীর শালবাগান এলাকায় হত্যাকান্ডের শিকার হন অধ্যাপক সিদ্দিকী। হত্যাকান্ডের পরই উত্তাল হয়ে ওঠে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। আন্দোলনে নামেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দেশের অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। ৩০ জুন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং পুলিশ প্রধান একেএম শহীদুল হকের আশ্বাসে লাগাতার অন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়।