“রাতভরের যুদ্ধে সাত পাকসেনাকে হত্যা করে তিনজনকে জীবন্ত ধরেছিলাম”

60

কল্যান কুমার চন্দ,বরিশাল থেকে ॥
স্বাধীনতা যুদ্ধের উত্তাল মুহুর্তে ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদীর বাটাজোর নামকস্থানে এ্যাম্বুসে থাকা পাক সেনাদের সাথে মুক্তিযোদ্ধা নিজাম বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হয়। সারারাতের ওইযুদ্ধে পাকসেনারা পরাস্থ হয়। ওই যুদ্ধে অংশগ্রহণের পর ভোরে পাকসেনাদের অবস্থান নেয়াস্থানে গিয়ে দেখতে পাই সাতজন পাকসেনা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ভোরে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় গভীর জঙ্গল থেকে অস্ত্রবিহীন তিনজন পাক সেনা সুবেদার শরীফ খান বেলুচী, সিপাহী নাসির খান বিহারী ও সিপাহী ফিরোজ খানকে (পাঞ্জাবী) আমি আটক করেছিলাম। পরে তাদের (পাক সেনাদের) স্বীকারোক্তি মতে, বাটাজোর সিএন্ডবি রোডের সন্নিকট থেকে তিনটি ব্যাটাগান ও কিছু গুলি উদ্ধার করেছিলাম।
একান্ত আলাপনে কথাগুলো বলছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আনসার কমান্ডার এম.এ রব (৬০)। তিনি আরও বলেন, আনসার বাহিনীর একজন দক্ষ কর্মী হিসেবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরবর্তী সময় থেকে শেষপর্যন্ত আমি নয়টিস্থানে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। সর্বশেষ ১৯৭১ সালের ২২ডিসেম্বর জীবন বাঁজি রেখে সরকারি গৌরনদী কলেজের পাকবাহিনীর ক্যাম্পে ৯নং সেক্টরের গ্রুপ কমান্ডার নিজাম উদ্দিন আকন ও আমি প্রবেশ করে ক্যাম্পে অবস্থানরত ১৪৭জন পাকসেনাকে আটক করে মিত্র বাহিনীর কাছে সোর্পদ করি। আবেগআপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, নিজের জীবন বাঁজি রেখে সেদিন পাকসেনাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধ করে বিজয় পতাকা ছিনিয়ে আনলেও স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর আজো আমি রয়েছি অন্যের ঘরে আশ্রিত। উপজেলার ধানডোবা গ্রামের তার মামা মৃত হারেজ মোল্লার বসত ঘরের একটি বারান্দায় ৫ সদস্যর পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি বসবাস করছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাসুদ হাসান পাটোয়ারীর দেয়া এক প্রত্যয়নপত্রে জানা গেছে, দক্ষ আনসার কমান্ডার আব্দুর রব চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারির পরবর্তী সময় থেকে জননিরাপত্তায় বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের ৩নং ক্যাম্পের ইনচার্জের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ১০টি ক্যাম্পে তীক্ষè নজর রেখে ব্যাপক সফলতা ও সুনাম অর্জন করেন। তার এ সাহসী ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ আনসার বাহিনীর জেলা সমাবেশে তাকে (এম.এ রব) সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। জীবন সায়ান্সে পরাজিত এ দক্ষ সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আনসার কমান্ডারকে আজীবন সম্মাননা এবং তার পূর্ণবাসনের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার সংশ্লি¬ষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর সুপারিশ করেছেন।