রাজশাহী সেফহোমে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় প্রতিবন্ধীর মৃত্যু

রাজশাহী অফিসঃ রাজশাহী সেফহোমে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় এক মানষিক প্রতিবন্ধীর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন আরো সাত জন। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে বুধবার দিবাগত রাতে তিনি মারা যান। তার নাম মিনতী রানী (৩৫)।

রামেক হাসপাতালে ভর্তি আক্রান্তরা হলেন, পপি খাতুন (১৭), জান্নাতুন খাতুন (১৭), তারা বেগম (৩০), অজুফা বেগম (৫০) ও রহিমা বেগম(২৯), মোমেনা (৫৫) ও আকাশ(১২)।

মহিলা-শিশু-কিশোরী হেফাজতিদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাজশাহীর বায়া সরকারী ‘সেফহোম’ এখন আর তাদের জন্য ততটা সেফ নয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজশাহী মহানগরের বায়া এলাকায় অবস্থিত সেফহোমটি আগে বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এখানকার দুইটি সেডে অসহায় বয়স্করা থাকতেন। পরে বৃদ্ধ পুনর্বাসন কেন্দ্রটি বিলুপ্ত করে একে মহিলা-শিশু-কিশোরী হেফাজতিদের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্র করা হয়। বর্তমানে এখানকার দুইটি সেডের একটিতে হেফাজতিরা রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সেফহোমে হেফাজতিদের খাবার সরবরাহ, চিকিৎসা প্রদান ও পথ্য সরবরাহে নানা অনিয়ম করছেন। দুই বছর আগে এই সেফহোম পরিদর্শনে আসেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান। তিনি শিশুদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না দেখে উদ্বেগ ও কর্মচারি স্বল্পতায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

সেফহোমটিতে বর্তমানে ৭৪ জন হেফাজতি রয়েছে। অথচ একটি সেডের ধারণক্ষমতা ৫০ জনের। বর্তমানে ৫৪ জনই কোন না কোন প্রতিবন্ধী।

সেফহোমের তত্ববধায়ক আবু তাহের বলেন, হঠাৎ করেই সাতজন হেফাজতি অসুস্থ হয়ে পড়ে। সাথে সাথেই তাদেরকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে মানষিক প্রতিবন্ধী মিনতী রানী মারা যান। খাদ্যে বিষক্রিয়া নয়, তারা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলো বলে দাবি করেন তিনি ।