রাজশাহী সীমান্তে সাত মাসে শুল্ক আদায় প্রায় ২৩ কোটি টাকা

রাজশাহী প্রতিনিধি : রাজশাহী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসা ভারতীয় গবাদিপশু থেকে ২০১৫ সালে শুল্ক আদায় হয়েছিল ছয় কোটি ৯০ লাখ ৩২ হাজার টাকা। চলতি বছরের সাত মাসে সেই শুল্কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ কোটি ৭৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা। যা প্রায় গত বছরের তুলনায় তিনগুণের বেশি।

রোববার এক মতবিনিময় সভায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মতিউর রহমান এ তথ্য জানান। সীমান্ত দিয়ে গবাদিপশু পারাপার এবং শুল্ক আদায়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনায় এটি সম্ভব হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বেলা ১১টায় বিজিবির রাজশাহী সদর দপ্তরে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মতিউর রহমান জানান, এই সীমান্ত দিয়ে ২০১৫ সালে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে ৯০ হাজার ৮৭টি গরু, ৪৭ হাজার ৮০৯টি মহিষ এবং ১৪টি উট। যা থেকে আয় হয়েছে ৬ কোটি ৭০ লাখ ৩২ হাজার টাকা।

অপর দিকে, চলতি বছরের গত ১০ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে এসেছে ৪ লাখ ৪ হাজার ৮৮৩টি গরু, ৫০ হাজার ২২৬টি মহিষ এবং ১০টি ছাগল। যা থেকে শুল্ক আদায় হয়েছে ২২ কোটি ৭৫ লাখ ৩২ হাজার টাকা।

মতিউর রহমান জানান, বিগত সময়ে গরু আনা-নেয়ার ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ ছিল না। শুল্ক আদায়ে কোনো শৃঙ্খলা ছিল না। এখন গরু-মহিষ পারাপারের জন্য বিট বা খাটালগুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। খাটালগুলোতে যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সুশৃঙ্খলতা ফিরিয়ে আনতে পারলে সীমান্ত হত্যা, অবৈধ পণ্যের পারাপার, পাচার, মাদক চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো। এর মাধ্যমে আমরা বাংলাদশ থেকে তথাকথিত জঙ্গির গমনাগমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

সীমান্ত হত্যা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মতিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকার কিছু মানুষ লোভের বশবর্তী হয়ে গরু আনার জন্য ভারতের সীমানায় প্রবেশ করে হত্যাকান্ডের শিকার হয়। এমন কোথাও হয়নি যে বিজিবি বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করে কাউকে হত্যা করেছে। আমরা যদি এদেশের মানুষের সচেতনতা বাড়াতে পারি, সীমান্তে চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারি তাহলে হয়তো একদিন শুনবেন, বিজিবির গুলিতে অনুপ্রবেশকারী ভারতীয় নিহত। সেই দিনও আসবে।

মতবিনিময় সভায় বিজিবি-১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক কর্নেল শাহজাহান সিরাজসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।