রাজশাহীর বাজারে দেশি লিচু

199

রাজশাহী অফিসঃ মধুমাস জৈষ্ঠ্যের আগমনে এখনও বাকি এক সপ্তাহ। এরই মধ্যে রাজশাহীর বাজারে এলো জৈষ্ঠ্যের রসালো ফল লিচু। নতুন ফল, তাই হাঁক-ডাক ছাড়াই বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম একটু চড়া। দাম বেশি হওয়ায় নিম্নবিত্তরা এখনও লিচু কেনা শুরু করেননি। তবে উচ্চবিত্তরা অনেকটা শখ করেই ঘরে নিচ্ছেন মৌসুমি এ ফল।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা দরে প্রতি ১০০ লিচু বিক্রি হচ্ছে। নতুন ফল হিসেবে লিচু পছন্দের তালিকায় প্রথমে থাকলেও দাম বেশির কারণে অনেকে কেনা থেকে বিরত থাকছেন। তবে আর কিছু দিন পর বাজারে বেশি পরিমাণে লিচু উঠলে দাম কমবে বলেও জানিয়েছেন তারা।

শনিবার নগরীর রেলগেট এলাকায় লিচু বিক্রি করছিলেন ছোটবনগ্রাম এলাকার বাসিন্দা শহীদুল্লাহ। তিনি জানান, বড়বনগ্রাম এলাকায় তার ১০টি দেশি লিচুর গাছ আছে। সেই গাছ থেকেই শনিবার প্রথম তিনি লিচু পেড়ে এনেছেন। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় সবাই লিচু কিনছেন না।

তিনি জানান, এবার বোম্বাই জাতের গাছে লিচু ধরেছে কম। দেশি গাছে বেশি লিচু ধরলেও কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে অনেক ক্ষতি হয়েছে। আবার গরম আবহাওয়ায় লিচু পেকেছেও আগে। তাই দাম একটু বেশি।

সাহেববাজারের লিচু ব্যবসায়ী আসলাম আলী বলেন, গাছে ফল কম থাকায় স্থানীয় চাষিদের কাছ থেকে চড়া দামে লিচু কিনতে হয়েছে। তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে। এ কারণে কেনার ইচ্ছে থাকলেও অনেক ক্রেতা ফিরে যাচ্ছেন। তবে আর দুই সপ্তাহ পর গাছে বেশি পরিমাণে লিচু পাকলে দাম কমবে বলেও জানান তিনি।
লিচুর ক্রেতা রায়হান আলী বললেন, বিক্রেতারা আকাশ ছোঁয়া দাম হাঁকছেন। কিন্তু বাচ্চারা লিচু খুব পছন্দ করে। তাই দাম বেশি হলেও কিনতে হলো। যদিও তা পর্যাপ্ত পরিমাণে নয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হক বলেন, বোম্বাই জাতের লিচু গাছগুলোতে এবার ‘অফ ইয়ার’ চলছে। আবার ঝড়ে দেশি গাছের পশ্চিম দিকের লিচু ঝরে গেছে। এ কারণে দাম বেশি দেখা যাচ্ছে।

তিনি জানান, জেলায় ৪৭৬ হেক্টর জমিতে লিচু বাগান রয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাড়ে ৪ টন। তবে ঝড়ের কারণে লিচুর উৎপাদন কমবে। তারপরেও প্রতি কেজিতে গড়ে ২০ পিস ধরে ৪ টন লিচু উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।