রাজশাহীর পাঁচ নারী পেলেন জয়িতা পুরস্কার

রাজশাহী অফিস : ‘ওগো জয়িতা, এগিয়ে চলো। সামনে দীপ্তমান ওই উষার আলো। কে বলেছে তোমরা অবহেলিত! কে বলেছে তোমরা লাঞ্ছিত! বাধা আর বিপত্তি কাটিয়ে দেখো, সামনে দীপ্তমান ওই উষার আলো।’ এটি ২০১৪ সালে জয়িতা নির্বাচিত রাজশাহীর বাঘার শরীফা বেগমের একটি কবিতার প্রথম পঙক্তি।

এই কবিতার কথার মতো বাধা আর বিপত্তি কাটিয়ে রাজশাহীর যে নারীরা উষার আলো স্পর্শ করতে পেরেছেন, তাদের মধ্যে থেকে পাঁচ নারীকে এবার জয়িতা পুরস্কার দেয়া হয়েছে। গত চার বছর ধরে মহিলা বিষয়ক অধিদফতর প্রতিটি জেলায় পাঁচ ক্যাটাগরিতে পাঁচজন নারীকে এই পুরস্কার দিয়ে আসছে।

এবার রাজশাহী থেকে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে পুরস্কার জিতলেন নগরীর উপশহর এলাকার নারী উদ্যোক্তা উরসী মাহফিলা ফাতেহা। শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে পুরস্কার পেলেন মিয়াপাড়া এলাকার শিরীন মাহবুবা। সফল জননী হিসেবে জয়িতা হলেন বালিয়াপুকুর এলাকার বাসিন্দা ক্রিকেটার সাব্বির হোসেনের মা হাজেরা খাতুন। নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করা নারী হিসেবে এই পুরস্কার পেলেন দাশপুকুর এলাকার শারমিন বেগম। আর সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় জয়িতা পুরস্কার জিতলেন নগরীর আসাম কলোনী এলাকার আঞ্জুমান আরা পারভীন।

ক্রিকেটার সাব্বিরের মা হাজেরা বেগম ঢাকায় থাকায় তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। তবে বাকি চার নারী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ক্রেস্ট গ্রহণ করেন। শুক্রবার বিকেলে বিভাগীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে এই ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে জয়িতারা তাদের জীবন সংগ্রামের গল্প শোনান সবাইকে। এ সময় আবেগ আপ্লুত হয়ে ওঠেন নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে জয়িতা হয়ে ওঠা শারমিন বেগম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আখতার জাহান। তিনি বলেন, বর্তমান সমাজেও অনেক নারী নির্যাতিত হচ্ছেন। নারীদের পেছনে রাখার চেষ্টা চলছে। কিন্তু তাদের এগিয়ে নিতে কাজ করছে সরকার। আর এ জন্যই জয়িতা পুরস্কার দিয়ে নারীদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

এর আগে স্বাগত বক্তব্যে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাহানাজ বেগম বলেন, একজন সংগ্রামী অপ্রতিরোধ্য নারীর প্রতীকী নাম জয়িতা। নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের মূর্ত প্রতীক জয়িতা। কেবল নিজের অদম্য ইচ্ছাকে সম্বল করে চরম প্রতিকূলতা জয় করে জয়িতারা তৃণমূল থেকে সবার অলক্ষ্যে সমাজে নিজের জন্য জায়গা করে নিয়েছেন। জয়িতারা বাংলাদেশের বাতিঘর। জয়িতাদের দেখে অন্য নারীরা অনুপ্রাণিত হবে। তখন ঘরে ঘরে জয়িতা সৃষ্টি হবে। আর তাহলেই বাংলাদেশ পৌঁছে যাবে তার গন্তব্যে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আতাউল গণি। বিশেষ অতিথি ছিলেন, সমাজসেবী শাহীন আক্তার রেনী ও জাতীয় মহিলা সংস্থার রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি মর্জিনা পারভীন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি কালচারাল একাডেমির কর্মকর্তা লুবনা রশিদ সিদ্দিকা কবিতা।