রাজশাহীর ক্লিনিক-ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের ধর্মঘট প্রত্যাহার

রাজশাহী অফিসঃ ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের প্রতিবাদে রাজশাহীর বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে শুরু হওয়া ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। বুধবার বিকেল ৩টা থেকে ক্লিনিক-ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনষ্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী জেলা শাখার সহ-সভাপতি ডা. ফয়সাল কবীর চৌধুরী জানান, বুধবার দুপুর ১টার দিকে রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ক্লিনিক মালিক নেতাদের সঙ্গে প্রশাসনের জরুরী সভা শুরু হয়। বিকেল ৩টার দিকে সভা শেষে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া হয়।
তিনি জানান, ওই সভায় রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দীন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. আশীষ কুমার সাহা, বাংলাদেশ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনষ্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি ডা. এমএ মান্নান, সাধারণ সম্পাদক মোখলেসুর রহমান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দেয়া হলে এই ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয় বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত আমানা হাসাপাতালকে সাড়ে ৩ লাখ, রয়্যাল হাসপাতালকে পৌনে ৪ লাখ ও ডেলটা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এ সময় গ্রেফতার করা হয় আমানা ও রয়্যাল হাসপাতালের ম্যানেজারকে।
এর প্রতিবাদেই নগরীর প্রায় ১০০টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে ধর্মঘট শুরু হয়। ধর্মঘট চলাকালে সেখানে নতুন করে কোনো রোগি ভর্তি নেয়া হয়নি। জরুরী সেবাও বন্ধ করে দেয়া হয়। ২৪ ঘন্টার এই ধর্মঘটে দারুণ ভোগান্তিতে পড়েন রোগিরা। বিশেষ করে ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ থাকায় নানা রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে বিপাকে পড়েন তারা। ফলে রোগিদের চাপ বেড়ে যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে।
বাধ্য হয়ে হাসপাতালের প্যাথলজি ও এক্স-রে বিভাগ ২৪ ঘন্টা খোলা রাখার জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন রাজশাহী-২ (সদর) আসনের এমপি ফজলে হোসেন বাদশা। তবে তার এই নির্দেশনার পরই ধর্মঘট প্রত্যাহার করলেন ক্লিনিক-ডায়াগনষ্টিকের মালিকেরা।