রাজশাহীতে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমপির সমর্থকদের হামলা

রাজশাহী অফিস : রাজশাহী জেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের এমপি আয়েন উদ্দিনের ক্যাডার বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পবা উপজেলার কাপাশিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, মহানগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউট নামে একটি প্রতিষ্ঠান পবার কাপাশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার ও এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেয়ার আয়োজন করে।

এ অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা যুবলীগের সভাপতি আবু সালেহ, সাধারণ সম্পাদক খালিদ ওয়াসি কেটু, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য নাইমুল হুদা রানা, নারী সদস্য জয়জয়ন্তী সরকার মালতি এবং যুবলীগ নেতা শফিকুল সরকারও অংশ নিয়েছিলেন। বিকেল ৪টার দিকে প্রধান অতিথি মোহাম্মদ আলী সরকারসহ অন্যান্য অতিথিরা মঞ্চে ওঠেন। মহানগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ জহিরুল আলম রিপনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পরই এ হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ১২-১৫ জন যুবক মঞ্চের পেছন থেকে হামলা চালায়। তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা ছিল। তারা প্রথমেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে মঞ্চের পেছনের অংশের পর্দার কাপড় কেটে ফেলে। এ সময় তারা মঞ্চের ডান পাশে ও সামনে থাকা অন্তত ৫০-৬০টি প্লাস্টিকের চেয়ার ভাঙচুর করে। এক পর্যায়ে তারা মঞ্চ ভাঙচুরের চেষ্টা চালালে উপস্থিত ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ধাওয়া দেন। এ সময় হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

দলীয় নেতারা জানান, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জনি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা উজ্জ্বল, যুবলীগ কর্মী খোকন জামান, কাটাখালি পৌরসভা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু আহমেদ, পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি হৃদয়, ছাত্রলীগ কর্মী জয় এবং যুবলীগ কর্মী সোহাগ, সুরুজ, ডাবু, রানা, মানিক ও ইমন সরাসরি এ হামলায় অংশ নেন। তারা সবাই স্থানীয় এমপি আয়েন উদ্দিনের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। তারা হামলা চালানোর পাঁচ মিনিট আগেও ঘটনাস্থলে মতিহার থানার দুই ভ্যান পুলিশ ছিল। তবে হামলার সময় সেখানে কোনো পুলিশ ছিল না। স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার পর ঘটনাস্থলে আবার পুলিশ আসে। তবে অতিথিরা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার সময়ও পুলিশ তাদের নিরাপত্তায় এগিয়ে আসেনি।

দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সদ্য অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে এমপি আয়েন উদ্দিন মোহাম্মদ আলী সরকারের প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছিলেন। আবার আগামি সংসদ নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ এমপি আয়েনের রাজশাহী-৩ আসনে মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এ কারণে তাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান পণ্ড করতে এমপি আয়েন তার ক্যাডারদের দিয়ে এই হামলা চালিয়েছেন। তবে তাদের এই হামলা প্রতিরোধ করে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঠিকই হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মহানগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইন্সটিটিউটের পক্ষ থেকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকারকে ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ, জেলা পরিষদের সদস্য নাইমুল হুদা রানা, নারী সদস্য জয়জয়ন্তী সরকার মালতি ও যুবলীগ নেতা আবু সালেহ এবং খালিদ ওয়াসি কেটুকেও সম্মাননা ক্রেস্ট দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, ‘আমাকে আর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। মতিহার থানার দুই ভ্যান পুলিশ ঘটনার পাঁচ মিনিট আগেও এখানে ছিল। কেন তারা চলে গেল, এ জবাব ওসিকে দিতে হবে। জবাব দিতে না পারলে ওসিকে প্রত্যাহার করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যার্থ হয়েছে। জনগণ আমাদের নিরাপত্তা দিয়েছে। রাজাকারপূত্র আয়েন আপনি দেখেন, জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। এই জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আপনার এই হামলার যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। আপনার মতো লেবাসধারী আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে জেলা আওয়ামী লীগের আগামি সভায় কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার বলেন, ‘এমপি আয়েন, ভুলে যাবেন না-আজ আপনি এমপি আমার করুণায়। আপনি আইন প্রণেতা। আপনার কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করা যায় না। আপনার বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিব। আয়েন আপনি আইন দেখেছেন, আইনের ফাঁক দেখেননি। আইনের এমন বেড়াজালে পড়বেন, সেখান থেকে আপনাকে আপনার বাবার বাবাও বের করতে পারবে না।’

এমপি আয়েন ও পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে সোমবার সন্ধ্যায় এমপি আয়েন উদ্দিন ও মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীরের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে দীর্ঘ সময় ধরে তাদের দু’জনের মুঠোফোনই ব্যস্ত পাওয়া গেছে। তাই এ ব্যাপারে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে হামলার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।