রাজশাহীতে গয়েশ্বরের সমাবেশে দফায় দফায় সংঘর্ষ

41

রাজশাহী অফিসঃ বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সমাবেশে দলের দুই গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রাজশাহী মহানগর বিএনপির কর্মী সম্মেলনে এই সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে তিনজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে পৌনে ৫টার দিকে নগরীর পাঠানপাড়া এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত কর্মী সমাবেশে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ এক কর্মীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে সংঘর্ষের মধ্যেও সমাবেশ শেষ হয়েছে। বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সমাবেশে সংক্ষিপ্তাকারে বক্তব্য দিয়েছেন।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, সমাবেশ শুরু হওয়ার পর যুবদল ও ছাত্রদল নেতাদের মঞ্চে উঠাকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এরপর কমিউনিটি সেন্টারের মধ্যে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন নেতাকর্মীরা।

এক পর্যায়ে মহানগর বিএনপির নতুন কমিটিতে পদপ্রাপ্ত ও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং সাবেক সভাপতি ও দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন।

সংঘর্ষ চলাকালে বুলবুলপন্থীর কয়েকজন কর্মীকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে জখম করতে দেখা গেছে। পরে পুলিশ গিয়ে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এ সময় পুলিশ বিএনপির এক কর্মীকে আটক করে গাড়িতে তুলতে দেখা যায়।

এর আগে বিকেল ৪টার দিকে মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলন শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। সমাবেশে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় তড়িঘড়ি করে সমাবেশ শেষ করা হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে সমাবেশের শেষ মুহুর্তে নেতাকর্মীরা বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও সংঘর্ষ চলছিল।

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, জেলা বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন তপু, মহানগরের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন প্রমূখ।