রাজনৈতিক পালা বদলে অর্থনীতির ঝুঁকি রোধে প্রয়োজন সামগ্রিক মানসিকতার পরিবর্তন

22

যুগবার্তা ডেস্কঃ দেশের সরকার বদলের সময় দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। ১৯৯০ সালে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গণতান্ত্রিক সরকারের সময়েও প্রতিটি নির্বাচনের আগে-পরে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। আর এর প্রভাব পড়েছে অর্থনীতির উপর। সর্বশেষ নির্বাচনের আগে ও পরে এ ক্ষতির পরিমাণ ছিল সর্বো”চ। এ ধারাবাহিকতায় আগামী নির্বাচনে আশঙ্খা করছে বিশ্বব্যাংক। আর এ আশঙ্খা যদি সত্যি হয় তাহলে আগামী নির্বাচনেও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ ব্যাপারে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মির্জা এবিএম আজিজুল ইসলাম বলেন, গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচন হবে এটাই স্বাভাবিক। তবে নির্বাচন কেন্দ্রিক বৈরী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তা নিরসনে মতৈক্য আসতে হবে। নির্বাচন কালীন সরকার কেমন হবে ইত্যাদি মৌলিক বিষয়গুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোতে একমত হতে পারলে এ ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।
সরকার পরিবর্তনের সময় রাজনৈতিক অস্থিরতায় অর্থনীতির যে ক্ষতি হয় তা রোধে নির্বাচন কেন্দ্রিক জ্বালাও পোড়াও মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ। তিনি বলেন, এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে যেমন পরাজিত হলে মানি না, মানবো না- মানকিতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। তেমনি দেশের সুশীল সমাজকে নিরপেক্ষ অবস্থান নিতে হবে। গত নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক জোট দেশব্যাপি অগ্নি সংযোগ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা যখন ভেঙ্গে ফেলে অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করলো তখনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি সমর্থন দিয়ে গেলেন। তিনি বলেন, অর্থনীতির ধারাকে অব্যাহত রাখতে শুধু রাজনীতিকদের দোষারোপ করার মানসিকতা দূর করে সুশীল সমাজকে যৌক্তিক ভুমিকা পালন করতে হবে।
নির্বাচন কেন্দ্রিক সংঘাত ও অস্থিরতা শুধু নির্বাচনকালীন সংঘাত নয় বরং দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির ক্ষমতার দ্বন্দ্বের ফসল বলে মনে করেন বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন এবং ক্ষমতার বাইরের ক্ষমতামুখী রাজনৈতিক দলগুলো সব সময়ই সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে নিজেদের পকেট ভারি করে। আর এর প্রভাব পড়ে অর্থনীতিতে। এ অব্যবস্থা থেকে বের হতে বিকল্প শক্তি গড়ে তুলতে এবং সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে নীতির পরিবর্তন করতে হবে। যার মাধ্যমে নির্বাচন কেন্দ্রিক অস্থিরতা দূর হবে।