রাজনৈতিক ক্যারিয়ার না থাকলেও থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসাবে শিল্পপতির নাম প্রস্তাব

বিশেষ প্রতিনিধি: রাজনীতির মাঠে না থেকে থেকেও অনৈতিক উপায়ে ঢাকার কদমতলী থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসাবে নাম প্রস্তাব করা হয়েছে শিল্পপতি‘র নাম। মাঠের রাজনীতিতে অনুপস্থিত থাকার পরেও ঐ শিল্পপতির নাম প্রস্তাবে ক্ষুব্ধ ওই এলাকার আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামীলীগ এর কদমতলী থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে একজন শিল্পপতির নাম প্রস্তাব করেছে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামীলীগ নেতারা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রস্তাবিত ঐ ব্যক্তি স্থানীয় ভাবে ‘শিল্পপতি‘ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় শিল্প এলাকায় সকলেই উনাকে ‘সাহেব‘ বলে সম্মোধন করে। অরাজনৈতিক পরিবারের ব্যবসায়ী কাজে সদাব্যস্ত ঐ ব্যক্তি সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরের লোক। উনার পরিবার বরাবরই ছিল আওয়ামীলীগ বিরোধী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই এলাকার অনেকেই বলেছেন, প্রস্তাবিত সভাপতি কখনই আওয়ামীলীগ করতেন না। ২০১৬ সালে সম্মেলনের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ঘোষিত কদমতলী থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ঐকমত্য হয়ে থানা আওয়ামীলীগের কমিটির প্রস্তাব করেছিলেন। মহানগর দক্ষিণ আওয়ামীলীগ তৎকালীন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রস্তাবিত কদমতলী থানা কমিটি থেকে ৩৩ জনের নাম পরিবর্তন করে পুর্নাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করেছিলেন। পরিবর্তিত নামসমূহের তালিকায় সহসভাপতি হিসেবে ঐ ‘শিল্পপতি‘র নামও ছিল। কোন প্রকার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা না থাকলেও বিশেষ যোগ্যতায় কদমতলী থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে নিজের নাম অনুমোদন করিয়ে নিয়েছে। ২০২২ সালের ২৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এবারের সম্মেলনে একই কায়দায় কদমতলী থানা আওয়ামীলীগের কমিটি গঠনে মহানগর দক্ষিণ আওয়ামীলীগ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত, জামায়াতের সাথে সম্পৃক্ততায় অভিযুক্ত‘ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সন্তুষ্ট করে কদমতলী থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে নিজের নাম প্রস্তাব করিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সদ্য সমাপ্ত কদমতলী থানা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাছিম মিয়াসহ ১৫ জন প্রার্থী নিজ নিজ জীবনবৃত্তান্ত জমা দিয়েছেন। মোহাম্মদ নাছিম একজন ছাত্রলীগ করা শিক্ষিত লোক। তিনি ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক। ৫২ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর এই নেতার সততা নিয়ে কেউ কোনদিন প্রশ্ন তোলেনি। সাদামাটা জীবন যাপন করার কারণে কর্মীবান্ধব নেতা হিসাবে আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের আস্থা অর্জন করেছেন তিনিই। তাকেই সভাপতি হিসাবে দেখতে চান কদমতলী থানা আওয়ামীলীগের জনগণ। এছাড়াও বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা গোলাম সরোয়ার মামুনও প্রার্থী হিসেবে নিজের বায়োডাটা জমা দিয়েছেন। তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সহসভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া অনলবর্ষী এই সাবেক ছাত্রনেতা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ৫৩ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হাজী নূর হোসেন সহ থানা আওয়ামীলীগের কয়েকজন সিনিয়র নেতা প্রার্থীতা ঘোষণা করলেও, সকল প্রার্থীদের বাদ দিয়ে কদমতলী থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে একজন ‘শিল্পপতি‘র নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। এখানেই সাধারণ নেতাকর্মীদের মনে প্রশ্ন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সর্বদা সম্পৃক্ত থাকা সিনিয়র নেতাদের বাদ দিয়ে বারবার অরাজনৈতিক বিত্তশালী ব্যক্তিদের নাম কেন কমিটিতে আসে? এখানে দুর্নীতির গন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবির বলেন, ‘যারা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিচ্ছেন তারা প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। উড়ো কোন অভিযোগ আসলে কোন অভিযোগ না, বরং শত্রুতা করে যে কেউই এরকম বলতে পারে। সামনে আমাদের সমাবেশ আছে, আমরা এ সমাবেশ সফল করার জন্য ব্যস্ত আছি।’