‘রাজনীতি ও সমাজে আদর্শবাদী ধারা ফিরিয়ে আনতে হবে’

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র নেতৃবৃন্দ বলেছেন, রাজনীতি ও সমাজে আদর্শবাদী ধারা ফিরিয়ে না আনতে পারলে তরুণ সমাজকে হতাশা মুক্ত করা যাবে না। এজন্য একই ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা চালু এবং পরিকল্পিত শিক্ষা ও বিকশিত জীবনের নিশ্চয়তার লক্ষ্যে পুরো ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে।
আজ বিকেলে পুরানা পল্টন মোড়ে সিপিবি পল্টন শাখার সম্মেলনকে সামনে রেখে সন্ত্রাস-সাম্প্রদায়িক-জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সিপিবি পল্টন শাখার সম্পাদক মুর্শিকুল ইসলাম শিমুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিপিবি ঢাকা কমিটির সম্পাদকম-লীর সদস্য বিকাশ সাহা, ঢাকা কমিটির সদস্য সেকেন্দার হায়াত, অভিনেত্রী সুমনা সোমা, সিপিবি পল্টন থানার সভাপতি অ্যাড. এম এ তাহের, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়ন আহ্বায়ক আব্দুল হাসেম কবির, পল্টন থানা কমিটির সদস্য পুষ্পেন রায়, শাখার নেতা শাহিনুর আল-আমিন প্রমুখ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সন্ত্রাসী সাম্প্রদায়িক জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দেশবাসী এক হলেও দেশের বড় দলগুলোর ক্ষমতা নির্ভর আদর্শহীন রাজনীতির কারণে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়নি। নেতৃবৃন্দ বলেন, শত্রুপক্ষ চিহ্নিত। এদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে অন্ততঃ যার যার বিরুদ্ধে মাঠে নামুন। এদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়া ও কৌশলগতভাবে ব্যবহার বন্ধ করুন।
নেতৃবৃন্দ বলেন, বিভিন্ন সময় শাসকদের ঘাড়ে চড়ে এসব অপশক্তি তাদের আর্থিক স্বক্ষমতা ও সামাজিক শক্তি গড়ে তুলেছে। এ সবকে পরাস্ত করতে হবে। নেতৃবৃন্দ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিতে নতুন প্রজন্মকে আদর্শনির্ভর রাজনীতির ধারায় যোগ দেয়ার আহ্বান জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, যানজট, জলজট, বাড়ীভাড়া, গাড়ীভাড়ায় অতিষ্ট ঢাকাবাসীর এখন অন্যতম সমস্যা নিরাপত্তাহীনতা। এরমধ্যে সরকার গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির দাম বাড়ানোর অপচেষ্টা করেছে। নেতৃবৃন্দ দ্বি-দলীয় রাজনীতির বিপরীতে বাম-গণতান্ত্রিক শক্তির বিকল্প শক্তি সমাবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে একাত্তরের ঘাতক জামাতকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি সরকারের দায়। আবার যারা জামাতকে নিয়ে রাজনীতি করে এদের মদদ দিচ্ছে তারা প্রকান্তরে অপশক্তির পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে। নেতৃবৃন্দ সাম্প্রদায়িক জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনসহ বহুমুখী সংগ্রাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে একটি মিছিল পল্টনের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পার্টি কার্যালয়ে এসে শেষ হয়।