রাজধানী ঘিরে জঙ্গিদের আরো আস্তানা আছে ৯টি আস্তানা গোয়েন্দাদের নজরে

80

যুগবার্তা ডেস্কঃ মিরপুরের শুধু ওই আস্তানাটি নয়, রাজধানী ঘিরে জঙ্গিদের আরো আস্তানার খবর আছে গোয়েন্দাদের কাছে। বিশেষ করে রাজধানীর উপকণ্ঠ বলে পরিচিত সাভার ও নারায়ণগঞ্জের কিছু এলাকার ৯টি আস্তানার ব্যাপারে গোয়েন্দারা ওয়াকিবহাল। পর্যায়ক্রমে অভিযান চালাতে প্রস্তুত পুলিশ। অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ইত্তেফাককে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, যে তথ্যই পাওয়া যাক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, পশ্চিমবঙ্গের খাগড়গড়ে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ যে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেছে তাতেও মিরপুর ও যাত্রাবাড়িতে দুই আস্তানার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। গতকালের অভিযানে যে আস্তানাটির সন্ধান মিলেছে সেটিই ওই আস্তানা কিনা সে ব্যাপারে পুলিশ নিশ্চিত করেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ধরন এখন আর আগের মতো নেই। আগে দেখা যেত মাদ্রাসায় পড়া বা অশিক্ষিত মানুষেরা জঙ্গি গ্রুপের সদস্য হতো। এখন দেখা যাচ্ছে, যুব সমাজের শিক্ষিত একটি অংশ জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকছে। এরা প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন। জোর করে বা চাপিয়ে দিয়ে জঙ্গিবাদ থেকে এদের নিবৃত্ত করা যাবে না। আসলে খুঁজে বের করতে হবে শূন্যতা কোথায়? কেন শিক্ষিত যুবকদের একটি অংশ জঙ্গিবাদের দিকে যাচ্ছে? কিন্তু সেদিকে মনোযোগ দেয়া হচ্ছে না।’

পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক ইত্তেফাককে বলেন, ‘ইমাম আলেমদের নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দেয়া হয়েছে। আমার সন্তানকে রাখব জঙ্গিমুক্ত- শ্লোগান নিয়ে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। আমাদের তত্পরতা চলছেই। জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানেই আছে পুলিশ। অভিযান চলবে।’ তিনি বলেন, এদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। মসজিদেও এরা হামলা করছে। এছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও হামলা করছে তারা। কিন্তু কোনো ধর্মই মানুষ হত্যা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলার বিষয়টি সমর্থন করে না। সমাজের সকল পেশার মানুষকে এই জঙ্গি তত্পরতা রোধে সামাজিক আন্দোলনের অনুরোধ করেন তিনি।

সর্বশেষ বুধবার মধ্যরাত থেকে শুরু করে গতকাল দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে রাজধানীর মিরপুরে জঙ্গিদের একটি বিশাল আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ। টানা ১৪ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে ৭ জন জঙ্গিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও হাতে তৈরি গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে। এই একই ধরনের গ্রেনেড পুরনো ঢাকার হোসেনী দালানে শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর আগেও কামরাঙ্গীরচরে অভিযান চালিয়ে জেএমবির কাছ থেকেও একই ধরনের গ্রেনেড ও বিস্ফোরক পাওয়া গেছে। তাদের কাছ থেকে ১৬টি গ্রেনেড ছাড়াও ট্রাংকভর্তি বিস্ফোরক ও প্রচুর জিহাদি বই পাওয়া গেছে। বুধবার বিকাল ৪টায় অভিযান সমাপ্ত ঘোষণার পর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় ১৪ ঘণ্টা চালানো অভিযান কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এখন আলামতগুলোর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। এগুলো সিআইডি ক্রাইম টিমকে বুঝিয়ে দেয়া হবে। রাত ২টা থেকে পরদিন বিকাল ৪টা পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়। ওই আস্তানায় যে পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে তা দিয়ে আরও ২০০টি গ্রেনেড তৈরি করা যেত।’

গোয়েন্দাদের একটি সূত্র জানিয়েছে, মিরপুর ছাড়াও যাত্রাবাড়ি, ডেমরা, সিদ্ধিরগঞ্জ, ফতুল্লা ও সাভারে জঙ্গিদের বিশেষ আস্তানা রয়েছে। এসব আস্তানায় তাদের প্রশিক্ষণ হয়। এর বাইরেও ছোট ছোট ঘাঁটি আছে। এ নিয়ে ৪টি গোয়েন্দা সংস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, জঙ্গিদের খোঁজ করে দেখা যায়, কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে এদের সখ্যতা রয়েছে। ফলে বিভিন্ন সময় কাজ করতে গিয়ে ধাক্কা খেতে হয়েছে গোয়েন্দাদের।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া ইত্তেফাককে বলেন, জঙ্গিদের যে ধরনের তত্পরতা থাকুক না কেন, তার চেয়ে বেশি তত্পর পুলিশ। ফলে জঙ্গিরা কোনোভাবেই আমাদের সঙ্গে পারবে না। কারণ আমাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষ আছেন। আবুল খায়ের, ইত্তেফাক