রমনা বটমূলে বোমাহামলার ১৫ বছর, এখনো হয়নি বিচার

42

কাল ১৪ এপ্রিল ২০১৬। বাঙালি জাতির এক ঐতিহ্যের দিন বাংলা নববর্ষ পয়লা বৈশাখ। ১৫ বছর আগে ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রাজধানীর রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ১০ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। কিন্তু আজও এই হামলার বিচার হয়নি। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মামলাটির শুনানি চলছে। মাঝে দীর্ঘ দিন শুনানি হয়নি।
আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে রমনা বোমা হামলার আপিলের শুনানি উচ্চ আদালতে (হাইকোর্টে) হওয়ার কথা রয়েছে। রমনা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল শুনানির জন্য বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের বেঞ্চের কার্যতালিকায় রয়েছে।
এ বিষয়ে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মনিরুজ্জামান কবির বলেন, দীর্ঘ দিন এ মামলাটির শুনানি হয়নি। আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই রমনা বোমা হামলার আপিল শুনানি শুরুর কথা রয়েছে। এ মামলাটি জেল ও ফৌজদারি আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি হবে। আশা করি মে মাসেই বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা হবে ।
তিনি আরও বলেন, এ মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া মুফতি আবদুল হান্নানসহ আটজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে। হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকার মাধ্যমে ১৫ বছর আগে বৈশাখী অনুষ্ঠানে এসে নিহত হওয়া স্বজনদের প্রতীক্ষার অবসান হবে।
সূত্র জানায়, বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলার রায় হয়েছে ২০১৪ সালের ২৩ জুন। রায়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।
একই বছর বিচারিক আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মাওলানা তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা আবু বকর ও আরিফ হাসান ওরফে সুমন হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল করেন। এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুফতি আবদুল হান্নান, মাওলানা আকবর হোসাইন ওরফে হেলাল উদ্দিন, আরিফ হাসান ওরফে সুমন জেল আপিল করেন।
২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় ১০ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনাস্থলেই মারা যান ৯ জন। তারা হলেন আল-মামুন হোসেন, রিয়াজুল ইসলাম, জান্নাতুল ফেরদৌস শিল্পী, আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ এমরান হোসেন, অসীম চন্দ্র সরকার, ইসমাইল হোসেন স্বপন ও আনসার আলী। একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পুলিশ রমনা থানায় মামলা করে।
২০০৬ সালের ১৯ নভেম্বর এ মামলায় মুফতি আবদুল হান্নান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর ঘটনার জট খোলে। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ মামলার তদন্তে গতি সঞ্চার হয়। ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনকে আসামি করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আদালতে ওই ঘটনায় দুটি অভিযোগপত্র দেয়। এর একটি হত্যা ও অপরটি বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে।
এই ১৪ আসামির মধ্যে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আসামিরা হলেন- মুফতি হান্নান, মাওলানা আকবর হোসাইন ওরফে হেলাল উদ্দিন, আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মাওলানা তাজউদ্দিন (প্রাক্তন উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই) এবং হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম ওরফে ওস্তাদ জাহাঙ্গীর বদর। এদের মধ্যে প্রথম চারজন কারাগারে এবং শেষোক্ত চারজন পলাতক। অপর ছয় আসামিকেই হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। আর কারাগারে আটক ছয় আসামি হলেন হাফেজ আবু তাহের, মাওলানা সাব্বির ওরফে আবদুল হান্নান, হাফেজ ইয়াহিয়া, মাওলানা শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, মাওলানা আবদুর রউফ ও শাহাদাত উল্লা ওরফে জুয়েল।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) সাব্বির ফয়েজ বলেন, ডেথ রেফারেন্স আসার পর পেপারবুক তৈরি হয়ে ছে। মামলাটির ডেথ রেফারেন্স ও জেল আপিল হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
বোমা হামলায় নিহত মামুনের ভাই হাসিবুল বলেন, ১৫ বছর আগে আমার ভাইকে বোমা মেরে হত্যা করা হয়েছে। আজও আমার ভাইয়ের বিচার পায়নি। কবে বিচার পাবো জানি না।