যুব মৈত্রীর জাতীয় সম্মেলন ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারী

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর কেন্দ্রীয় ও জাতীয় পরিষদ সভা শুক্রবার রাজধানীর তোপখানাস্থ শহীদ আসাদ মিলনায়তনে সংগঠনের সভাপতি মোস্তফা আলমগীর রতনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সদ্য প্রয়াত কিউবার মহান বিপ্লবী ও প্রেসিডেন্ট কমরেড ফিদেল ক্যাস্ত্রো, কবি সৈয়দ শামসুল হক, সামাজিক আন্দোলনের নেতা অজয় রায়, সাবেক ছাত্রনেতা মহাবুবুল হক শাকিলসহ বিভিন্ন সময় বিশিষ্টজন যারা প্রয়াত হয়েছেন তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
সভায় বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, সহসভাপতি টিপু সুলতান এমপি, জাহাঙ্গীর আলম ফজলু, এম এ সাঈদ, আনিসুর রহমান মিথুন, মুর্শিদা আখতার ডেইজী, সহ সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম তপন, আব্দুল আহাদ মিনার, রফিকুল ইসলাম সুজন, মনিরুদ্দিন পান্না, অরুণ কুমার ঘোষ তরুন, কেন্দ্রীয় নেতা কাজী মাহমুদুল হক সেনা, রাশেদ খান মেনন, ভবেশ রায়, রেজওয়ান রাজা প্রমুখ।
রোহিঙ্গা ইস্যু আমাদের দেশের জন্য হুমকি। মানবিক দৃষ্টিতে বিষয়টি উল্লেখ করার কথা হলেও বিষয়টি অবশ্যই মানবিক কিন্তু তার চেয়েও বেশি রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক। অতীতে এবং বর্তমানে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের উপর যেভাবে অত্যাচার করছে তা কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। মিয়ানমার সরকারকে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের বর্বর অত্যাচার বন্ধ করতে হবে এবং রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে নিরসন করতে এবং রোহিঙ্গাদের সকল প্রকার নাগরিক সুবিধা প্রদান করতে হবে। রোহিঙ্গা ইস্যু নিরসনে বিশ্বব্যাপী মিয়ানমার সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করার জন্য পরিষদ মনে করে।
সাধারণভাবে সাম্প্রদায়িক ও জঙ্গিবাদকে কিছুটা পিছু হটছে বলে মনে হলেও আসলে মোটেও তাই না। বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে জানাতে পারছি বিভিন্ন পরিবারের শিক্ষার্থী নিখোঁজ হচ্ছে। যা কোন প্রকার শুভ লক্ষণ নয়। তদন্তের মাধ্যমে জানা যাচ্ছে এই সকল নিখোঁজ শিক্ষার্থীরা জঙ্গিবাদের দিক্ষায় দিক্ষীত হয়ে জঙ্গিবাদে পথে পাড়ি জমাচ্ছে।
দুর্নীতি ও দলীয়করণ আজ মহামারিতে পরিণত হয়েছে, রাষ্ট্রের প্রশাসন ও সর্বস্তরে দুর্নীতির আগ্রাসন লক্ষ করার মতো। উন্নয়নের গতি যেভাবে হচ্ছে সেইভাবে পাল্লা দিয়ে চলছে দুর্নীতি। সেই দুর্নীতির কারণে দেশের প্রবৃদ্ধির প্রায় হারে কমে যাচ্ছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুব মৈত্রীকে সর্বাত্মক লড়াই ঘোষণা ও অব্যাহত রাখতে হবে বলে যুব মৈত্রীর জাতীয় পরিষদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
সা¤্রাজ্যবাদী আমেরিকা ও তার মিত্রদের আমাদের দেশের রাজনীতির মধ্যে নাক গলানো ও হস্তক্ষেপ ষড়যন্ত্র চলমান সেই দিকে নজর রেখে দেশের অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারা এগিয়ে নিতে আমাদের সংগঠিত ও সক্রিয় থাকা জরুরি। জাতীয় পরিষদ সভা থেকে আগামী ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ৭ম জাতীয় সম্মেলনের তারিখ পুনর্নিধারণ করা হয় এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে আগামী ৬ জানুয়ারি ২০১৬ ঢাকায় এবং ৭ জানুয়ারি দেশব্যাপী “দুর্নীতি মুক্ত চাকুরি চাই” “প্রশাসনের সর্বস্তরের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোল” উপরোক্ত দাবিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখার অঙ্গিকার করা হয়।
নাসির নগরের সংগঠিত হিন্দু ধর্মালম্বীদের উপর হামলার সাথে জড়িতদের তদন্ত সাপেক্ষে বিচার ও গোবিন্দগঞ্জের আদিবাসীদের হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে জাতীয় পরিষদ সভা।
রামপাল বিদ্যুত প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়। জাতীয় পরিষদ মনে করে বিদ্যুৎ যেমন প্রয়োজন ঠিক তেমনিভাবে সুন্দরবন রক্ষায় সরকারকে যতœবান হওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সুন্দরবন রক্ষায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে সুন্দরবনের দূরত্ব ন্যূনতম ২০-৩০ কিলোমিটার রেখেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে পারে। সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কর্তব্য বলে যুব মৈত্রী মনে করে।
নারী নির্যাতন ও মাদকের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সংগঠন এবং সংগ্রাম গড়ে তোলার জন্য জাতীয় পরিষদ সভা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।