যুব ইউনিয়নের বিক্ষোভ সমাবেশ

ডেস্ক রিপোর্ট: সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতি বিনষ্টের যে কোনো অপতৎপরতার বিরদ্ধে স্থানীয়ভাবে সর্বজনীন সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম। কুমিল্লাসহ সারাদেশে উস্কানীমূলক সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে আজ ১৫ অক্টোবর শুক্রবার বিকাল চারটায় পল্টন মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এ আহবান জানান।
প্রতিবাদ সমাবেশে বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. সাজেদুল হক রবেলের সভাপতিত্বে সহকারী সাধারণ সম্পাদক হাবীব ইমনের সনচালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের প্রেসিডিয়াম সদস্য ত্রিদিব সাহা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি গোলাম রাব্বী খান, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি চৌধুরী জোসেন। সভা পরিচালনা করেন ঢাকায় জেলার সভাপতি হরেন্দ্রনাথ সিংহ।
মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, সাপ নিয়ে খেলবেন না। সামনে বিপদ আছে। বাংলাদেশের মানুষ জেগে উঠলে, তারণ্য জেগে উঠলে পালানোর পথ খুঁজে পাবেন। মুক্তিযুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। এদেশের তরণ সমাজ আরেকটি মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।
কুমিল্লাসহ সারাদেশে কয়েকটি পূজামন্ডপে হামলা এবং প্রতিমা ভাঙচুরের তীব্র নিন্দা বক্তারা বলেন, কুমিল্লাহর নানুয়ার দিঘীর পাড়ে এক পূজামন্ডপে কোরান শরীফ অবমাননা করা হয়েছে বলে যে কাহিনি ছড়িয়ে দিয়ে যেভাবে পূজামন্ডপে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে, তা গভীর ষড়যন্ত্রমূলক। এর রেশ ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, নোয়াখালী, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার, কুড়িগ্রাম, চাপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের মন্দির ও পূজা মন্ডপে সংঘটিত হামলা-ভাঙচুর কেবল কোন বিচ্ছিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনা তো নয়ই বরং প্রত্যক্ষভাবে সরকারের বিচারহীনতার সংস্কৃতির ফলে সংঘটিত ঘটনা বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নানা গুজব ছড়িয়ে দিয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা করা হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক বছরের পর্যবেক্ষণ বলে, সিংহভাগ ক্ষেত্রে হামলার সূত্রপাত প্রধানত জমির দখল নিয়ে এবং হামলাকারীদের সাথে শাসকগোষ্ঠীর স্থানীয় পদস্থ ও প্রভাবশালীদের নিবিড় যোগাযোগ লক্ষণীয়। দেশে যখনই মানুষের ক্ষোভ সঞ্চারের শঙ্কা তৈরি হয় তখনই নজর অন্য দিকে ফেরাতে সাম্প্রদায়িক হামলার মতো ঘৃণ্য ঘটনা ঘটানো হয়।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে দমন করবার বদলে অতীতের অন্যান্য সরকারের মতো অসাম্প্রদায়িকতার ধ্বজাধারী বর্তমান সরকারও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে সাম্প্রদায়িক শক্তির সাথে আপোষ এবং ক্ষেত্রভেদে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে, ফলে বিচারহীনতার ধারবাহিকতায় এবারও নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতি নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে পূজামন্ডপে হামলা করবার দুঃসাহস দেখাতে পেরেছে দুর্বৃত্তরা।
যুব ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ যে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক হামলাকারী ও এদের উস্কানিদাতাদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানোর পাশাপাশি যে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উস্কানি সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং অপশক্তির বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে রুখে দাঁড়াতে ছাত্র-শ্রমিকসহ দেশের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানায়।