‘যুক্তির কাছে পরাজিত হয়ে সরকার ও কোম্পানির প্রতিনিধিরা মিথ্যাচারে মেতে উঠেছে’- জাতীয় কমিটি

যুগবার্তা ডেস্কঃ ‘সুন্দরবনধ্বংসী রামপাল প্রকল্প নিয়ে সরকার-কোম্পানীর মিথ্যাচার ও বিভ্রান্তির জবাব’ শীর্ষক তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, যুক্তির কাছে পরাজিত হয়ে সরকার ও কোম্পানীর প্রতিনিধিরা মিথ্যাচারে মেতে উঠেছে। অন্যদিকে সুন্দরবন রক্ষায় দেশবাসী জেগে উঠেছে। এই মিথ্যাচার দিয়ে দেশি-বিদেশি লুটেরাদের স্বার্থ করা যাবে না। এই প্রকল্প বাতিল না হওয়া পর্যন্ত সুন্দরবন রক্ষার আন্দোলন চলবে।
শনিবার মুক্তিভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সরকার ও কোম্পানীর প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্য উপাত্ত খ-ন করে এবং রামপাল প্রকল্প ও সুন্দরবনের ক্ষতির তথ্য উপাত্ত তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান, প্রকৌশলী কল্লোল মোস্তফা, প্রকৌশলী মাহবুব সুমন, মাহা মির্জা, রাজনীতিক রুহিন হোসেন প্রিন্স, আব্দুস সাত্তার, মিজানুর রহমান প্রমুখ। সভায় নূর মোহাম্মদ, অধ্যাপক মুশাহিদা সুলতানা, জাহিদুল হক মিলু, ফিরোজ আহমেদ, জাহাঙ্গীর আলম ফজলু, শহিদুল ইসলাম সবুজ, রজত হুদা, মহিউদ্দিন চৌধুরী, লিটন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বিবিয়ানা থেকে যখন গ্যাস রপ্তানির কথা উঠেছিল তখন অনেক ভাড়াটিয়া বিশেষজ্ঞ বলেছিলেন, ‘গ্যাসের উপর ভাসছে দেশ’, ‘এখনই গ্যাস রপ্তানি না করলে দেশের উন্নয়ন হবে না’। আজ প্রমাণিত হয়েছে ঐ সময় গ্যাস রপ্তানি হলে দেশেরই ক্ষতি হতো। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা দেওয়া, উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা তোলা, টাটাকে স্বল্প মূল্যে গ্যাস সরবরাহ করে শিল্প স্থাপন করতে দেওয়া, কনোক-ফিলিপ্সকে অসম চুক্তিতে ব্লক ইজারা দেওয়া নিয়ে এসব বিশেষজ্ঞরা যেসব কথা বলেছিলো তা শুনলে দেশেরই সর্বনাশ হতো। তাই মনে রাখতে হবে এসব বিশেষজ্ঞ দেশের স্বার্থ নয়, কোনো না কোনো কোম্পানীর স্বার্থ রক্ষা করে।
তিনি বলেন, দেশের জনগণ কা-জ্ঞান দিয়ে বুঝছে, সুন্দরবনের ক্ষতি হবে। কিন্তু তথাকথিত বিশেষজ্ঞ, কোম্পানীর প্রতিনিধিরা বুঝছে না। কারণ ভাড়াটিয়াদের কা-জ্ঞান লোপ পায়।
তিনি সুন্দরবন ধ্বংসী সকল চুক্তি বাতিলের দাবিতে আগামী ২০ আগস্ট দিনব্যাপী ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ও দেশব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
সভায় অন্যান্য বক্তারা কোম্পানীর প্রতিনিধিদের তথ্য উপাত্ত খ-ন করে বলেন, উনারা যে সব প্রযুক্তির কথা বলেছেন, এসব ব্যবহারে বিপুল খরচ হবে এবং বিশ্বব্যাপী প্রমাণিত হচ্ছে তাতে ক্ষতি হবেই, হয়তো পরিমাণ কমবে। কিন্তু সুন্দরবন ধ্বংস ঠেকানো যাবে না।
তাই এই প্রকল্প মানা যায় না। মনে রাখা দরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের বহু বিকল্প আছে, কিন্তু সুন্দরবনের বিকল্প নাই।
বক্তারা সুন্দরবন রক্ষায় নীতিমালা প্রণয়ন ও মহাপ্রাণ সুন্দরবন এর ক্ষতি হয় এমন সব স্থাপনা বন্ধের দাবি জানান। বক্তারা বলেন, সরকার দাবি না মেনে দমন-নিপীড়নের পথ বেছে নিলে আগামীতে অবরোধ হরতালসহ কঠোর কর্মসূচি দিয়ে গণজাগরণের মাধ্যমে সরকারকে প্রকল্প বন্ধ করতে বাধ্য করা হবে।