যুক্তরাষ্ট্র ভয়াবহ তুষারঝড়ের কবলে

62

যুগবার্তা ডেস্কঃ ওয়াশিংটন, নিউ ইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল ভয়াবহ তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া বিভাগ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দুই থেকে আড়াই ফুট তুষারের চাদরে ওয়াশিংটন চাপা পড়তে পারে ।
নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত ব্রুকলিন ও কুইন্স আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে এজন্য ওখানকার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে ।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে শুক্রবার ও শনিবার ৬ হাজার ৩০০ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যার অধিকাংশই নিউ ইয়র্ক ও ফিলাডেলফিয়ার বিমানবন্দরের। শুধু শুক্রবারই বিলম্বিত হয়েছে ৭ হাজার ফ্লাইট।
এই তুষারঝড়ের মাত্রা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। নিউ ইয়র্কের সব বাসিন্দাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ যেন ঘরের বাইরে বের না হয়।
ওয়েদার চ্যানেল জানিয়েছে, অন্তত ২০টি রাজ্যের সাড়ে আট কোটি মানুষ এখন তুষারঝড়ের কবলে রয়েছে।
টেনেসি এবং নর্থ ক্যারোলাইনাকে ক্ষত-বিক্ষত করে ভয়াবহ তুষারঝড় ভার্জিনিয়া এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে হামলে পড়ে শুক্রবার দুপুরে।
টেনেসি এবং নর্থ ক্যারোলাইনায় শুক্রবার সকাল থেকে তুষারঝড়ে ৮ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে রাজ্য প্রশাস।
তুষারপাতের কারণে গাড়ি দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছেন নর্থ ক্যারোলাইনার গভর্নর প্যাট ম্যাককরি। বরফে পিছলে গিয়ে টেনেসির পূর্বাঞ্চলে আরেক গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন এক নারী।
বরফে আটকে দুজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এই দুই রাজ্যে।
তুষারঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। দুই লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে বলে রাজ্যগুলোর প্রশাসন জানিয়েছে।
৬০ থেকে ৬৫ মাইল বেগে তুষারঝড়ের আশংকায় মেরিল্যান্ড, নর্থ ক্যারোলাইনা, ভার্জিনিয়া ও পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসি, ফিলাডেলফিয়া এবং নিউ ইয়র্ক অঞ্চলে বিশেষ সতর্কাবস্থা অবলম্বন করা হয়েছে।
ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র ম্যুরিয়েল ই বাউসার বলেছেন, জনজীবনের জন্যে মারাত্মক হুমকিস্বরূপ এ তুষারঝড়ের কারণে রাজধানীর সব রেল চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার ভোর পর্যন্ত তা বন্ধ থাকবে।
মেরিল্যান্ডের গভর্নর ল্যারি হগ্যান বলেন, “৯০ বছরের মধ্যে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ এ এলাকার মানুষ দেখেনি। ১৯২২ সালের পর এটি হচ্ছে সবচেয়ে মারাত্মক তুষারঝড়।”
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের পরিচালক লুইস উসেলিনি এ ঝড়কে খুবই বিপজ্জনক বলে বর্ণনা করেছেন।
ওয়াশিংটন ডিসিতে ৩০০ এবং নিউ ইয়র্ক সিটিতে ন্যাশনাল গার্ডের ৬০০ সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে যে কোনো ধরনের প্রয়োজনে সাড়া দেওয়ার জন্যে। পুলিশ এবং দমকল বাহিনীতে ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
বাল্টিমোর এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে শনিবার রাত পর্যন্ত ৩০ ইঞ্চির বেশি বরফ পড়তে পারে বলে ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে। ১৯২২ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে ২৮ ইঞ্চি বরফ জমেছিল, তা ছিল এযাবতকালের রেকর্ড।
আটলান্টিক সিটি, ফিলাডেলফিয়া এবং নিউ ইয়র্ক সিটিসহ পূর্ব উপকূলীয় শহরগুলোতে ঝড়ের শঙ্কা রয়েছে। ব্রুকলিন, কুইন্সের সঙ্গে স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে বন্যা সতর্কতা জারি করেছে ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস।
নিউ ইয়র্ক, লং আইল্যান্ড এবং নিউ জার্সিতে শনিবার ভোর রাত থেকে সারাদিন ৮ ইঞ্চি থেকে ১৬ ইঞ্চি পর্যন্ত বরফ পড়তে পারে বলে আবহাওয়া বুলেটিনে বলা হয়েছে।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পেনসিলভেনিয়া ও ফিলাডেলফিয়ায় ১০ থেকে ১৬ ইঞ্চি পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বরফ পড়তে পারে কেনটাকি এবং নর্থ ক্যারোলাইনায়।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শনিবার ম্যানহাটানে ঘণ্টায় ৩০ মাইল বেগে বয়ে যেতে পারে ঝড়ো হাওয়া। ওয়াশিংটন এবং বাল্টিমোরে বাতাসের গতিবেগ হতে পারে আরও বেশি এবং তা ৬৫ মাইলে বাড়তে পারে।
নিউ ইয়র্কের মেয়র বিল ডি ব্লাসিও এ ঝড় মোকাবেলার প্রস্তুতি রাখতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “রাস্তা থাকবে খুবই পিচ্ছিল, তাই গাড়ি না চালানোই উত্তম। পাতাল ট্রেনের গতি মন্থর থাকবে। বাস চলবে ধীর গতিতে।
“পুলিশ, এ্যাম্বুলেন্স এবং তুষার পরিষ্কারের যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এমনভাবে কেউ যেন গাড়ি না রাখেন। তাহলে ওই গাড়ি জব্দ করা হবে।”
তুষারঝড়ের কারণে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লে অথবা অন্য কোনো সমস্যায় আক্রান্তদের কাছের আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।