মৌলবাদ-জঙ্গিবাদ ও রাষ্ট্রীয় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল

36

যুগবার্তা ডেস্কঃ সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের উদ্যোগে আজ দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলটি টিএসসি থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী, কলাভবন, বাণিজ্য অনুষদ, মধুর ক্যান্টিন হয়ে কলাভবন ক্যাফেটেরিয়ার সামনে সমাবেশে মিলিত হয়।
সভাপতি নাঈমা খালেদ মনিকার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক স্নেহাদ্রি চক্রবর্ত্তী রিন্টুর
পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সত্যজিৎ বিশ্বাস।
সভাপতির বক্তব্যে নাঈমা খালেদ মনিকা বলেন, ‘গুলশানে ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তি যে পাশবিক কায়দায় ২০ জন সাধারণ মানুষকে হত্যা ও ঈদের দিন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতে হামলা করলো তা অত্যন্ত নিন্দাযোগ্য এবং সভ্যতাবিরোধী। ঘটনার ভয়াবহতা দেশের সাধারণ মানুষকে স্তম্ভিত করেছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির বেহাল অবস্থা এবং জননিরাপত্তার বিন্দুমাত্র অবশিষ্ট নেই বলেই এমন নির্মম ঘটনা ঘটতে পারলো। সমাজের সকল স্তরের মানুষই যে আজ এক ভয়াবহ বিপদে আছে তা আরেকবার প্রমাণিত হলো। সরকার এতদিন ধরে ব্লগার, বিজ্ঞান লেখক কিংবা পুরোহিত, ভিক্ষু, মুয়াজ্জিন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে হত্যার ঘটনাকে তুচ্ছ-বিচ্ছিন্ন করে দেখাতে চেয়েছে। লোক দেখানো উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু এসব উদ্যোগ কতটা অকার্যকর তা এই ২০জন নিরীহ প্রাণের করুণ মৃত্যুতে যেন তীব্রভাবে বোঝা গেল।
সরকার এই ঘটনার দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। ধারাবাহিকভাবে জঙ্গি গোষ্ঠীর মাধ্যমে যখন একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটেছে তখন তাদের প্রায় কোনোটির বিচার না করে, হাতেনাতে ধরাপড়া জঙ্গিকে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যা করে, জঙ্গি ধরার নামে হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হয়রানি আর গ্রেপ্তার বাণিজ্য করে সরকার এই পরিস্থিতি তৈরির উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করেছে। গুলশানের ঘটনা এসব কর্মকা-েরই ধারাবাহিকতা। এদেশের শাসকগোষ্ঠী সবসময় নিজেদের গণবিরোধী শাসন আড়াল করতে ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করেছে, মোৗলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতাকে মদত দিয়েছে, কূপম-ুক মাদ্রাসা শিক্ষার বিস্তার ঘটিয়েছে। শিক্ষার
বাণিজ্যিকীরণের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাজারি বিষয়গুলোই পড়ানো হচ্ছে, সামাজিক বিজ্ঞান, সাহিত্য-দর্শনের বিষয়গুলোকে অবহেলা করা হয়েছে, কোন ধরণের গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করা হয়নি। অথচ, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার ছিল ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার। জঙ্গীবাদের সমস্যা কার্যকরভাবে মোকাবেলা করতে আজ তাই প্রয়োজন মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আদর্শগত ও সাংস্কৃতিক সংগ্রাম, সর্বোপরি গণতান্ত্রিক সমাজ-সংস্কৃতি এবং বিজ্ঞানভিত্তিক যুক্তিবাদী শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করা।