মোংলায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ফাদার মারিনো রিগণকে সমাধিস্থ করা হবে

মোংলা থেকে মোঃ নূর আলমঃ মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখা ইতালিয়ান নাগরিক ফাদার মারিনো রিগনের মরদেহ বাংলাদেশে আনা হচেছ আগামী ২১ অক্টোবর রবিবার সকালে। এক বছর পর সরকারি ভাবে তাঁর মরদেহ ইতালি থেকে আনা হচ্ছে। ফাদার রিগনের অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁকে আগামী ২১ অক্টোবর রবিবার মোংলার শেলাবুনিয়ায় গার্ড অব অনার প্রদান করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে। মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

মোংলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের বরাত দিয়ে জানান ২১ অক্টোবর ভোর ৫টায় তার্কিশ এয়ারলাইন্স’র ফ্লাইট ঞক-০৭১২-তে মৃত্যুর এক বছর পরে বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ফাদার মারিনো রিগণের মরদেহ ঢাকায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌছাবে। সেখান থেকে সকাল সাড়ে ৮ টায় হেলিকপ্টারযোগে ফাদার রিগনের মরদেহ মোংলায় আনা হবে। ফাদার রিগণকে বহন করা হেলিকপ্টার মোংলার শেখ রাসেল স্টেডিয়ামে অবতরন করবে। সকাল সাড়ে ৯টায় ফাদার রিগণের মরদেহ আনা হবে মোংলা উপজেলা পরিষদের মাঠে। সেখানে উপজেলা প্রাসনের পক্ষ থেকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুই ঘন্টা উপজেলা পরিষদের মাঠে রাখার পর মরদেহ নেয়া হবে ফাদার রিগনের প্রতিষ্ঠিত সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয় এবং সেন্ট পল্স হাসপাতালে। সবশেষে শেলাবুনিয়ার সেন্ট পল্স গীর্জার সামনে তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে সেখাইে রাস্ট্রীয় মর্যাদায় ফাদার মারিনো রিগণকে সমাধিস্থ করা হবে। ফাদার রিগনের মরদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য ফাদার রিগনকে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখার জন্য স্বীকৃতি স্বরুপ Friends of Liberation War Honour পদকসহ ২০০৯ সালে বাংলাদেশের সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য ফাদার রিগণ ১৯৫৩ সালে বাংলাদেশে আসেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি গোপালগঞ্জের বানিয়ারচর ছিলেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছেন। দেশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে অবশেষে তিনি মোংলার শেলাবুনিয়ায় স্থায়ী আবাস গড়ে তোলেন। দীর্ঘ ৫০ বছর মোংলায় অবস্থানকালে ফাদার মারিনো রিগণ ইতালিয়ান ভাষায় অনুবাদ করেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলিসহ ৪০টি কাব্যগ্রন্থ, লালন সাঁইয়ের তিনশত পঞ্চাশটি গান, জসীম উদ্দীনের নক্সীকাঁথার মাঠ, সোজন বাদিয়ার ঘাট ছাড়াও এদেশের খ্যাতিমান কবিদের অসংখ্য কবিতা। অন্যদিকে ফাদার রিগণ বাগেরহাট জেলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়, সেন্ট পল্স হাসপাতালসহ প্রতিষ্ঠা করেছেন ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রতিষ্ঠা করেছেন সেন্ট পল্স সেলাই কেন্দ্র যেখান থেকে বিদেশে রপ্তানি করা হতো নক্সীকাঁথা। ফাদার রিগণ শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন’র সভাপতি সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস রিগণ সম্পর্কে বলেছেন তিনি ইতালিতে বাংলাদেশের অঘোষিত রাস্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। আর সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ফ্রান্সিস সুদান হালদার বলেছেন ফাদার রিগণ নিজেই বলতেন ” আমার ম¯Íকে রবীন্দ্রনাথ অন্তরে লালন”।